যবিপ্রবিতে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সাফল্য, বছরে জ্বালানি সাশ্রয় ৪০ লাখ টাকা
- আপডেট সময় : ০৩:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন রুট ও ট্রিপ চালু, বিদ্যমান সেবার পরিধি বাড়ানো এবং যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পরিবহন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি খাতে প্রায় ৪০ লাখ টাকারও বেশি সাশ্রয় হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তর জানায়, গত এক বছরে প্রায় তিন হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী এবং ৫০ জন নতুন শিক্ষক-কর্মকর্তা যুক্ত হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ২৯টি গাড়ি ও ২৩ জন চালক দিয়ে নিয়মিত পরিবহন সেবা সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। এ সময়ে গাড়ির গড় মাইলেজ প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি ইঞ্জিন অয়েল ও বিআরটিসি ভাড়া বাবদ খরচও কমিয়ে এনেছে।
শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কর্মদিবসে শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য একাধিক ট্রিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মার্কেট ট্রিপে গাড়ির সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিকেল ও রাতে শহরে যাওয়া ও ফেরার আলাদা ট্রিপ চালু করা হয়েছে। এমনকি ক্লাস বন্ধ থাকলেও অফিস খোলা থাকা সাপেক্ষে ক্যাম্পাস-শহর রুটে নিয়মিত পরিবহন সেবা বজায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ঝিনাইদহ শহর থেকে ভেটেরিনারি ক্যাম্পাসে নতুন সেবা চালু, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য গোধূলি ট্রিপ এবং মার্কেট ট্রিপের পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
পরিবহন সেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রতিটি গাড়িতে ভেহিকেল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) স্থাপন এবং গ্যারেজ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সেই সঙ্গে তথ্য ও অভিযোগের জন্য হটলাইন চালু করা হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতেও এই দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বীরপ্রতীক তারামন বিবি হলে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত শতাধিক শিক্ষার্থীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া ও ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে আনা, ভর্তি পরীক্ষা, ওরিয়েন্টেশন এবং ঈদুল আজহা ও রমজানের সময় শিক্ষার্থীদের বিশেষ পরিবহন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
তবে চালক সংকট এবং নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে নতুন রুট, পূর্ণাঙ্গ শাটল সেবা, ছুটির দিনে মার্কেট ট্রিপ, শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রি ভিজিটে পরিবহন সুবিধা এবং সার্বক্ষণিক দুটি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবহন পরিচালক ড. শিমুল ইসলাম জানান, পরিচালক হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় বছরের দায়িত্ব শেষ হয়েছে। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিক্ষক-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে দপ্তর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। তিনি পরিবহন সেবার মান বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার জন্য পরিবহন পরিচালনা কমিটির সদস্য, সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে সুচিন্তিত মতামত প্রদানকারীদেরও তিনি সাধুবাদ জানান।



























