রিজার্ভ ছাড়া টাকা ছাপানো বন্ধ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের আইনি নোটিশ
- আপডেট সময় : ১২:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

রিজার্ভের পর্যাপ্ত ব্যাকআপ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং বাজারে থাকা ১০০০ টাকার নোট অবিলম্বে বাতিলের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশের বিবাদী করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব (অর্থ বিভাগ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে।
নোটিশে দাবি করা হয়েছে, অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির নিয়ম অনুযায়ী নতুন মুদ্রা বাজারে ছাড়ার বিপরীতে স্বর্ণ, রৌপ্য কিংবা নির্ভরযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার (যেমন: মার্কিন ডলার, ইউরো, আরএমবি) রিজার্ভ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই নিয়ম উপেক্ষা করে কৃত্রিমভাবে মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে 'কোয়ান্টিটি থিওরি অব মানি' অনুযায়ী টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে মূল্যস্ফীতি তীব্র রূপ নিয়েছে, যা সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রাকে সংকটাপন্ন করে তুলছে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকারের পরিপন্থী হিসেবে রিজার্ভ ছাড়া অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
১০০০ টাকার নোট বাতিলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে নোটিশে বলা হয়েছে, সাধারণ নাগরিক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন লেনদেনে এই বড় অঙ্কের নোটের প্রয়োজন নেই। বরং এটি দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র, কর ফাঁকিবাজ ও অপরাধীদের কালোটাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে লুকিয়ে রাখতে এবং সমান্তরাল 'ছায়া অর্থনীতি' গড়ে তুলতে সহায়তা করছে। উদাহরণ হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ২ হাজার টাকার নোট বাতিলের বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ফেরাতে ১০০০ টাকার নোট বাতিল করা এখন সময়ের দাবি।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রিজার্ভ ছাড়া নতুন টাকা ছাপানো বন্ধ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নিতে সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।



























