ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর নতুন নিয়ম, দ্বিতীয়বার হারালে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এমপি-মন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না: ডা. শফিকুর রহমান নারী রেফারিকে হেনস্তা ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্যে বরখাস্ত হিগুয়েইন খেলাফতের দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: মুহাম্মদ শাহজাহান বিএনপির কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরেছে: শফিকুর রহমান বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি, কার্যকর ২২ সেপ্টেম্বর দেশের ৬ হাজার ৫৪৪ প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল বসাবে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লঞ্চভাড়া বৃদ্ধি করল সরকার চিরিরবন্দরে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটক ১, কারাদণ্ড নড়াইলে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, রাজশাহী স্টেশনে ভাঙচুর ও ৪ কর্মী বরখাস্ত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গত রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতের এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মারধরের শিকার আইয়ুব আলী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার দিনই বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন—মো. আরিফ হোসেন (স্টাফ নং সি-৯৮৯), মো. রোকন উদ্দীন (সি-৮৮৩), মো. শফিকুল ইসলাম (সি-১৩২১) ও মো. শাহাদত হোসেন (সি-৬০০)।

জানা গেছে, আইয়ুব আলী তাঁর চাচাকে স্টেশনে এগিয়ে নিতে বা আনতে গিয়েছিলেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বললে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি হরিয়ান এলাকায় আটকা পড়ে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা রেললাইন ধরে হেঁটে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে এগিয়ে যান।

রাত ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কয়েক দফায় স্টেশনে ভাঙচুর চালান। এ সময় গাছের ডাল, বাঁশ, লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে স্টেশনের কাচের জানালা, ডাস্টবিন, দোকানপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ, সাইনবোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়েও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা স্টেশন ত্যাগ করে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

রাকসু আন্দোলন বা শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের পক্ষে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমি বিন্দুপরিমাণ অ্যাপোলজি (ক্ষমা) করব না। কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার প্রবণতা কতটা ভয়ানক, তা হয়তো আজ বুঝেছে। একজন সাধারণ মানুষেরও বিন্দুপরিমাণ ক্ষতি হয়নি। যদি মামলা করতে হয়, তবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের নামেই করতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছে। আশা করি, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।”

পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর, রাজশাহী স্টেশনে ভাঙচুর ও ৪ কর্মী বরখাস্ত

আপডেট সময় : ১২:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। গত রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতের এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

মারধরের শিকার আইয়ুব আলী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার দিনই বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা হলেন—মো. আরিফ হোসেন (স্টাফ নং সি-৯৮৯), মো. রোকন উদ্দীন (সি-৮৮৩), মো. শফিকুল ইসলাম (সি-১৩২১) ও মো. শাহাদত হোসেন (সি-৬০০)।

জানা গেছে, আইয়ুব আলী তাঁর চাচাকে স্টেশনে এগিয়ে নিতে বা আনতে গিয়েছিলেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বললে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ওই দিন রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি হরিয়ান এলাকায় আটকা পড়ে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা রেললাইন ধরে হেঁটে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে এগিয়ে যান।

রাত ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কয়েক দফায় স্টেশনে ভাঙচুর চালান। এ সময় গাছের ডাল, বাঁশ, লাঠি ও ইটপাটকেল নিয়ে স্টেশনের কাচের জানালা, ডাস্টবিন, দোকানপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ, সাইনবোর্ড এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়েও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা স্টেশন ত্যাগ করে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

রাকসু আন্দোলন বা শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের পক্ষে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “আমার শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমি বিন্দুপরিমাণ অ্যাপোলজি (ক্ষমা) করব না। কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার প্রবণতা কতটা ভয়ানক, তা হয়তো আজ বুঝেছে। একজন সাধারণ মানুষেরও বিন্দুপরিমাণ ক্ষতি হয়নি। যদি মামলা করতে হয়, তবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের নামেই করতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ক্যাম্পাসে ফিরে গেছে। আশা করি, সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।”

পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার বলেন, এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin