ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১ বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা ভোলায় এনসিপির কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের তেলুগু তারকা নানির ক্যারিয়ার, সম্পদ ও আসন্ন সিনেমার গল্প

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ৫০০ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করেন। জানা গেছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আপিল করবে।

এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। প্রতিটি অভিযোগে পৃথকভাবে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হলেও তা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দুটি অভিযোগে তাকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।

প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইনুর বিরুদ্ধে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ৩ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং ইনু কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে আন্দোলনকারীদের আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ৬ নম্বর অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। ৭ নম্বর অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টিও ট্রাইব্যুনাল প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে 'শুট অ্যাট সাইট' সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা মোতায়েন ও হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনা, বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে উসকানি এবং ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যাসহ সারাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাসানুল হক ইনু বর্তমানে শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা পৃথক আরেকটি মামলায় বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আপডেট সময় : ০১:৩৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ৫০০ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করেন। জানা গেছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন আপিল করবে।

এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। প্রতিটি অভিযোগে পৃথকভাবে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হলেও তা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দুটি অভিযোগে তাকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।

প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইনুর বিরুদ্ধে ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ৩ নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং ইনু কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে আন্দোলনকারীদের আটক ও নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ৬ নম্বর অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। ৭ নম্বর অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টিও ট্রাইব্যুনাল প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে এসব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে 'শুট অ্যাট সাইট' সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা মোতায়েন ও হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনা, বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে উসকানি এবং ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনকে হত্যাসহ সারাদেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা ও ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাসানুল হক ইনু বর্তমানে শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা পৃথক আরেকটি মামলায় বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din