ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের

বিদেশে বসে ঢাকার নাশকতার ছক, নেপথ্যে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ করেই অস্থিরতা ও উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছেন। গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিদেশে বসে দলটির নেতারা নাশকতার ছক কষছেন। এর মূল লক্ষ্য বিএনপি সরকারকে বিব্রত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া। বিদেশে পলাতক প্রভাবশালী নেতা, এমপি এবং বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এই নাশকতার মূল পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ৫ই আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পালিয়ে আসা কয়েক হাজার মাঝারি ও তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা সাধারণ হকার, চাকরিপ্রার্থী বা সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, ব্যাচেলর মেস, সস্তা হোটেল এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, মুগদা, শাহজাহানপুর, সবুজবাগ, ধানমণ্ডি, যাত্রাবাড়ি এবং পুরান ঢাকার সূত্রাপুর-কোতোয়ালি এলাকার মেস ও ফ্ল্যাটগুলোতে তাদের ঘন ঘন গোপন বৈঠকের তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার বড় আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার সুযোগ নিয়ে তারা সহজেই আত্মগোপন করছেন, যা ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে সম্ভব হচ্ছিল না।

বিদেশে পলাতক নেতারা সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপস ব্যবহার করে এসব নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। যদিও রাজপথে বড় কোনো সমাবেশ করার সামর্থ্য তাদের নেই, তবে তারা 'হিট অ্যান্ড রান' বা ঝটিকা মিছিলের কৌশল বেছে নিয়েছেন। ৩০-৪০ জনের ছোট দল নিয়ে হঠাৎ রাস্তায় নেমে ব্যানারসহ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেয়াই এদের লক্ষ্য। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগী ও বর্তমানে ওএসডি বা বরখাস্ত হওয়া একশ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তার উস্কানি ও যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত এসব পুলিশ কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রাখার পাশাপাশি গোপনে নাশকতার জন্য অপারেশনাল তথ্য সরবরাহ করছেন। এছাড়া বিদেশে পলাতক সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারাও এসব ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ সচল রাখতে বড় অঙ্কের অর্থ পাঠাচ্ছেন।

সম্প্রতি গুলশানের মতো কূটনৈতিক এলাকায় জুমার নামাজের আগে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় সরকারের হাই কমান্ড তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এই ব্যর্থতার দায়ে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), গুলশান থানার ওসি এবং গুলশান জোনের এডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে এবং এ পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল কললিস্ট ও অর্থ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি শক্তিশালী চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।

নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, আব্দুল্লাহপুর ও বাবুবাজার ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং কূটনৈতিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাত বাড়ার সাথে সাথে ঢাকার বিভিন্ন মেসে ও সন্দেহভাজন হোটেলগুলোতে র‍্যাব-পুলিশের যৌথ 'ব্লক রেইড' বা আকস্মিক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কোনো বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া মেসে অবস্থানকারী বহিরাগতদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বিদেশে বসে ঢাকার নাশকতার ছক, নেপথ্যে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা

আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনৈতিক অঙ্গনে হঠাৎ করেই অস্থিরতা ও উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথিত প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা নতুন করে তৎপর হয়ে উঠেছেন। গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঢাকাকে কেন্দ্র করে বিদেশে বসে দলটির নেতারা নাশকতার ছক কষছেন। এর মূল লক্ষ্য বিএনপি সরকারকে বিব্রত ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া। বিদেশে পলাতক প্রভাবশালী নেতা, এমপি এবং বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এই নাশকতার মূল পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ৫ই আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পালিয়ে আসা কয়েক হাজার মাঝারি ও তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছেন। তারা সাধারণ হকার, চাকরিপ্রার্থী বা সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, ব্যাচেলর মেস, সস্তা হোটেল এবং আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিশেষ করে মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, মুগদা, শাহজাহানপুর, সবুজবাগ, ধানমণ্ডি, যাত্রাবাড়ি এবং পুরান ঢাকার সূত্রাপুর-কোতোয়ালি এলাকার মেস ও ফ্ল্যাটগুলোতে তাদের ঘন ঘন গোপন বৈঠকের তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার বড় আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার সুযোগ নিয়ে তারা সহজেই আত্মগোপন করছেন, যা ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতে সম্ভব হচ্ছিল না।

বিদেশে পলাতক নেতারা সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপস ব্যবহার করে এসব নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। যদিও রাজপথে বড় কোনো সমাবেশ করার সামর্থ্য তাদের নেই, তবে তারা 'হিট অ্যান্ড রান' বা ঝটিকা মিছিলের কৌশল বেছে নিয়েছেন। ৩০-৪০ জনের ছোট দল নিয়ে হঠাৎ রাস্তায় নেমে ব্যানারসহ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেয়াই এদের লক্ষ্য। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিস্ট আমলের সুবিধাভোগী ও বর্তমানে ওএসডি বা বরখাস্ত হওয়া একশ্রেণির পুলিশ কর্মকর্তার উস্কানি ও যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত এসব পুলিশ কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় রাখার পাশাপাশি গোপনে নাশকতার জন্য অপারেশনাল তথ্য সরবরাহ করছেন। এছাড়া বিদেশে পলাতক সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারাও এসব ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ সচল রাখতে বড় অঙ্কের অর্থ পাঠাচ্ছেন।

সম্প্রতি গুলশানের মতো কূটনৈতিক এলাকায় জুমার নামাজের আগে ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় সরকারের হাই কমান্ড তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এই ব্যর্থতার দায়ে গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), গুলশান থানার ওসি এবং গুলশান জোনের এডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে এবং এ পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল কললিস্ট ও অর্থ লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি শক্তিশালী চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।

নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, আব্দুল্লাহপুর ও বাবুবাজার ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং কূটনৈতিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া রাত বাড়ার সাথে সাথে ঢাকার বিভিন্ন মেসে ও সন্দেহভাজন হোটেলগুলোতে র‍্যাব-পুলিশের যৌথ 'ব্লক রেইড' বা আকস্মিক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কোনো বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া মেসে অবস্থানকারী বহিরাগতদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin