ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক

পাবনায় শিশু কলি হত্যায় ক্ষোভ: আসামির বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পাবনার দোগাছি ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের বাড়িতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা ও হাতুড়ি ব্যবহার করে দোতলা ভবনটির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু কলি। তার সন্ধানের দাবিতে ১৪ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে মানববন্ধনও করেন এলাকাবাসী। নিখোঁজের সাত দিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশু কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের দিনই প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একটি ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামির বাড়িতে ভাঙচুরের সময় উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তবে ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিহত শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। স্বজনদের দাবি, পুলিশ শুরুতেই সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালালে হয়তো শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।

প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের বাড়িতে ভাঙচুরের সময় পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলামের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন আগুন দিয়েন না। পুলিশ তো এখানে বছর ভরে থাকবে না। আমরা চলে যাওয়ার পর যা ইচ্ছা কইরেন।’ এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ওসির বিরুদ্ধে উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত্ত করার পরিবর্তে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।

নিহত শিশুর স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

এদিকে, জেলা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, একটি ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আসামির বাড়িতে ভাঙচুরের সময়ও উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

পাবনায় শিশু কলি হত্যায় ক্ষোভ: আসামির বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর

আপডেট সময় : ১২:১৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাবনার দোগাছি ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের বাড়িতে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। ইট-পাটকেল, লাঠিসোঁটা ও হাতুড়ি ব্যবহার করে দোতলা ভবনটির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু কলি। তার সন্ধানের দাবিতে ১৪ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে মানববন্ধনও করেন এলাকাবাসী। নিখোঁজের সাত দিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশু কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের দিনই প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একটি ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামির বাড়িতে ভাঙচুরের সময় উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তবে ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিহত শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। স্বজনদের দাবি, পুলিশ শুরুতেই সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান চালালে হয়তো শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো।

প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের বাড়িতে ভাঙচুরের সময় পাবনা সদর থানার ওসি তারিকুল ইসলামের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন আগুন দিয়েন না। পুলিশ তো এখানে বছর ভরে থাকবে না। আমরা চলে যাওয়ার পর যা ইচ্ছা কইরেন।’ এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ওসির বিরুদ্ধে উত্তেজিত জনতাকে নিবৃত্ত করার পরিবর্তে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।

নিহত শিশুর স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ ও বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

এদিকে, জেলা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, একটি ‘ক্লুলেস’ হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদঘাটন করে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আসামির বাড়িতে ভাঙচুরের সময়ও উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh