তৃণমূলের নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির জেরে দলটির নাম ও প্রতীক নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে দুই বিদ্রোহী শিবিরের জন্য নতুন নাম ও প্রতীক ঘোষণা করেছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের নতুন দলীয় প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে, বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে ‘খাম’।
তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো প্রতীক ‘জোড়াফুল’ হাতছাড়া হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২৮ বছর ধরে দলটি একই নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করে এসেছে। তবে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর দলে ভাঙন দেখা দিলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ‘তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ করে দেয়।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে ‘দুর্ভাগ্যজনক, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের নমুনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্ট করতেই কমিশন এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন নাম ও প্রতীক বেছে নিতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, তারা কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে আলোচনা করেননি, বরং একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
এদিকে, দলের এই বিভক্তির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দায়ী করেছেন বিজেপিনেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মন্তব্য করেন যে, দল একত্রিত রাখতে না পারার দায় একান্তই মমতার। আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে দুই দলই তাদের নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রামে নিজেদের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছে, যা ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করার অংশ বলে দলপ্রধান জানিয়েছেন। রেজিনগর আসন নিয়েও নতুন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা রয়েছে।




























