রাশিয়ায় যুদ্ধকালীন নির্বাচন: ক্রেমলিনের ক্ষমতা আরও পোক্ত হওয়ার আভাস
- আপডেট সময় : ১১:০০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর রাশিয়ায় প্রথম যুদ্ধকালীন পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই নির্বাচনে ক্রেমলিনের রাজনৈতিক আধিপত্য আরও সুদৃঢ় হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেনের কাছ থেকে দখল করে নেওয়া অঞ্চলগুলোতেও এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কার্যত কোনো শক্তিশালী বিরোধী দলের অস্তিত্ব নেই। বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
আগামী রোববার পর্যন্ত এই ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটারদের উপস্থিতি বাড়াতে রুশ কর্তৃপক্ষ সপ্তাহজুড়ে ভোটের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অনলাইনেও ভোট দেওয়ার সুযোগ রেখেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাশিয়ার মোট ১১ কোটি ১০ লাখ যোগ্য ভোটারের মধ্যে প্রথম দিন অর্থাৎ শুক্রবার শেষ নাগাদ প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যার মধ্যে অনলাইন ভোটও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর অনুষ্ঠিত এই প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে ক্রেমলিন মূলত যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থন প্রদর্শন করতে এবং তাদের সামরিক কর্মকাণ্ডের বৈধতা জাহির করতে চাইছে। যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ ভিন্নমতের সব ধরনের প্রকাশ কঠোরভাবে দমন করেছে। নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, "আপনাদের পছন্দ ও দৃঢ়তা আবারও প্রমাণ করবে যে লাখ লাখ মানুষ আমাদের যোদ্ধাদের পাশে রয়েছে। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি, অভিন্ন মূল্যবোধ, ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসায় আবদ্ধ।" ক্রেমলিন জানিয়েছে, পুতিন নিজেই শুক্রবার অনলাইনে ভোট দিয়েছেন এবং এ সময় কম্পিউটারের সামনে বসা তার একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচনে ক্রেমলিনের প্রধান রাজনৈতিক দল ‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ নিম্নকক্ষ স্টেট ডুমায় তাদের বিশাল নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে বলে প্রায় নিশ্চিত। এছাড়া ‘সিস্টেমিক অপোজিশন’ বা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি ছোট দলও পার্লামেন্টে নিজেদের আসন ধরে রাখতে পারে, যারা সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব ইস্যুতে সরকারের পক্ষেই ভোট দিয়ে থাকে। স্টেট ডুমার মোট ৪৫০টি আসনের অর্ধেক পূরণ করা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। বাকি অর্ধেক আসনে একক নির্বাচনী এলাকায় সরাসরি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে মস্কোর বাসিন্দাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দিমিত্রি কিরিলিন নামের এক বাসিন্দা পরিবর্তন এবং নেতৃত্বে নতুন কোনো দলকে দেখার আশা প্রকাশ করলেও, আলেকজান্ডার ভার্তুখিন মনে করেন ইউনাইটেড রাশিয়া ও কমিউনিস্টদের বর্তমান কর্মকাণ্ডই যথেষ্ট। মস্কোর একটি ভোটকেন্দ্রে কথা বলা পেনশনভোগী গালিনা ভাভিলোভা মনে করেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়। আরেক পেনশনভোগী লিউদমিলা কালিনিনা আশা প্রকাশ করেন, মানুষের জীবনযাত্রা যেন আরও স্থিতিশীল হয় এবং ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বিশাল ব্যবধানের অবসান ঘটে। ৭২ বছর বয়সী অধ্যাপক ভ্লাদিমির চুবারেভ সরকারের উদ্যোগগুলোর সাফল্য কামনা করে বলেন, "আর অবশ্যই বিজয় হবে।"
এদিকে, যুদ্ধের সমালোচনা করার সাহস দেখানো একমাত্র নিবন্ধিত দল ‘ইয়াবলোকো পার্টি’কে গত মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনের ব্যালট থেকে বাদ দিয়েছে। একক আসনের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে দলটির মাত্র কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া যুদ্ধবিরোধী কয়েকজন রাজনীতিককে প্রচারণা শুরুর আগেই কারাবন্দি করা হয়েছে অথবা দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এই নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন গ্রীষ্মজুড়ে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ ও ওজোন-এর গুদামেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো আরও জটিল রূপ নিয়েছে এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষের জীবনে যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে।



























