ঢাকা ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এবারের লক্ষ্য সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকো। নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন ও ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ এনে শুক্রবার তিনি এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। নিজের অপছন্দের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থানের সর্বশেষ উদাহরণ এটি। বার্তা সংস্থা এপি এই তথ্য জানিয়েছে।

এর আগেও ট্রাম্প বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যার কয়েকটি ঘটনা পরবর্তীতে আদালতে গড়ায়। নতুন এই হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। তবে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবায়নের কোনো তাৎক্ষণিক লক্ষণ দেখা যায়নি। উল্লিখিত তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা তখনও হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণেই অবস্থান করছিলেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘অবিলম্বে কার্যকরভাবে, আমি সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করছি।’ কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, তারা নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘোষণার কয়েক মিনিট পর ওভাল অফিসের একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘কারণ তারা ভুয়া খবর। তাদের ভুয়া খবর পড়তে ও দেখতে দেখতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে যাবে। সিএনএনের দিকে তাকালে দেখবেন এটি শুধুই ভুয়া, আর এ কারণেই তাদের দর্শকসংখ্যা ভালো নয়। এমএস নাউ এবং পলিটিকোর প্রতিবেদনগুলোও ভুয়া। আমাদের দেশে সৎ সংবাদ প্রয়োজন।’ তবে এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিএনএন। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মার্কিন সংবিধানের অধীনে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ পরিবেশনের অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার হুমকি কার্যকর হলে তা হবে গণমাধ্যমের সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকারের ওপর একটি অবৈধ আঘাত। অন্যদিকে পলিটিকো জানিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখবে এবং প্রথম সংশোধনীর অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জোরালো আইনি লড়াই চালাবে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে পাঠানো ই-মেইলের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি এমএস নাউ।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাংবাদিকদের আক্রমণ করে আসছেন। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের দেওয়া নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ অনুসরণ না করার কারণে গত বছর এপির সাংবাদিকদের ওভাল অফিস, এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে এপির করা মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। এছাড়া ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং বিবিসি-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রচার লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে এবিসির সঙ্গেও তার প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

সিএনএনকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার এই হুমকিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কারণ এর ফলে প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হওয়া এবং তার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরদারি করার প্রচলিত ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়তে পারে। শুক্রবার সিএনএনের প্রতিনিধি যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আইওয়া সফরে ছিলেন, তখনই ট্রাম্পের এই হুমকি আসে। এরপরই ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে।

ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মার্ক শোয়েফ বলেন, প্রশাসনের সংবাদ পরিবেশনে অসন্তুষ্টির কারণে সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হলো কোন কণ্ঠগুলো প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার প্রয়োগ প্রত্যক্ষ ও প্রতিবেদন করতে পারবে, তা নিয়ন্ত্রণের একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। আইনি ভাষায় একে ‘ভিউ পয়েন্ট ডিসক্রিমিনেশন’ বা দৃষ্টিভঙ্গিগত বৈষম্য বলা হয়। পেন আমেরিকার সাংবাদিকতা ও অপতথ্যবিষয়ক পরিচালক টিম রিচার্ডসন মন্তব্য করেছেন, প্রথম সংশোধনী কীভাবে কাজ করে, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কারও বোঝানো দরকার। ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান সেথ স্টার্ন বলেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে সংবাদমাধ্যমকে ‘পিপলস হাউস’ থেকে নিষিদ্ধ করার চেয়ে প্রথম সংশোধনীর আরও স্পষ্ট লঙ্ঘন আর হতে পারে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ১০:১৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এবারের লক্ষ্য সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকো। নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন ও ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশের অভিযোগ এনে শুক্রবার তিনি এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। নিজের অপছন্দের সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান কঠোর অবস্থানের সর্বশেষ উদাহরণ এটি। বার্তা সংস্থা এপি এই তথ্য জানিয়েছে।

এর আগেও ট্রাম্প বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, যার কয়েকটি ঘটনা পরবর্তীতে আদালতে গড়ায়। নতুন এই হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। তবে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবায়নের কোনো তাৎক্ষণিক লক্ষণ দেখা যায়নি। উল্লিখিত তিন প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকরা তখনও হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণেই অবস্থান করছিলেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘অবিলম্বে কার্যকরভাবে, আমি সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করছি।’ কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেন, তারা নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘোষণার কয়েক মিনিট পর ওভাল অফিসের একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘কারণ তারা ভুয়া খবর। তাদের ভুয়া খবর পড়তে ও দেখতে দেখতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে যাবে। সিএনএনের দিকে তাকালে দেখবেন এটি শুধুই ভুয়া, আর এ কারণেই তাদের দর্শকসংখ্যা ভালো নয়। এমএস নাউ এবং পলিটিকোর প্রতিবেদনগুলোও ভুয়া। আমাদের দেশে সৎ সংবাদ প্রয়োজন।’ তবে এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি।

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিএনএন। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, মার্কিন সংবিধানের অধীনে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই সংবাদ পরিবেশনের অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার হুমকি কার্যকর হলে তা হবে গণমাধ্যমের সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মৌলিক অধিকারের ওপর একটি অবৈধ আঘাত। অন্যদিকে পলিটিকো জানিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত রাখবে এবং প্রথম সংশোধনীর অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জোরালো আইনি লড়াই চালাবে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে পাঠানো ই-মেইলের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি এমএস নাউ।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাংবাদিকদের আক্রমণ করে আসছেন। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের দেওয়া নাম ‘গালফ অব আমেরিকা’ অনুসরণ না করার কারণে গত বছর এপির সাংবাদিকদের ওভাল অফিস, এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে এপির করা মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। এছাড়া ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং বিবিসি-সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। সম্প্রচার লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে এবিসির সঙ্গেও তার প্রশাসনের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

সিএনএনকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার এই হুমকিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কারণ এর ফলে প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হওয়া এবং তার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরদারি করার প্রচলিত ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়তে পারে। শুক্রবার সিএনএনের প্রতিনিধি যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আইওয়া সফরে ছিলেন, তখনই ট্রাম্পের এই হুমকি আসে। এরপরই ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব-সহ বেশ কয়েকটি সংগঠন ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে।

ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মার্ক শোয়েফ বলেন, প্রশাসনের সংবাদ পরিবেশনে অসন্তুষ্টির কারণে সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করা হলো কোন কণ্ঠগুলো প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার প্রয়োগ প্রত্যক্ষ ও প্রতিবেদন করতে পারবে, তা নিয়ন্ত্রণের একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। আইনি ভাষায় একে ‘ভিউ পয়েন্ট ডিসক্রিমিনেশন’ বা দৃষ্টিভঙ্গিগত বৈষম্য বলা হয়। পেন আমেরিকার সাংবাদিকতা ও অপতথ্যবিষয়ক পরিচালক টিম রিচার্ডসন মন্তব্য করেছেন, প্রথম সংশোধনী কীভাবে কাজ করে, তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কারও বোঝানো দরকার। ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি বিভাগের প্রধান সেথ স্টার্ন বলেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে সংবাদমাধ্যমকে ‘পিপলস হাউস’ থেকে নিষিদ্ধ করার চেয়ে প্রথম সংশোধনীর আরও স্পষ্ট লঙ্ঘন আর হতে পারে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin