ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বোরহানউদ্দিনে সবজি চাষ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ঢাবি ক্যাম্পাসে গাড়িচাপায় ৭ শিক্ষার্থী আহত, চালক সহপাঠী আটক উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়: কাতার আমির অক্টোবরের ১২ দিনে ১২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা স্ত্রীকে হত্যার পর ভারতে পালানোর সময় পিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার মজনু মাদক ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ ট্রেনের টিকিট নিয়ে যাত্রীদের সতর্ক করল বাংলাদেশ রেলওয়ে কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার রহস্য উদঘাটন, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার বিএনপিও আওয়ামী লীগের কায়দায় দেশ চালাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

গানের দেশ বাংলাদেশ: সুরের মূর্ছনায় বেঁচে থাকার প্রেরণা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ধানের দেশ, গানের দেশ বাংলাদেশ। গোলা ভরা ধান আর গলায় গলায় গান নিয়ে এই বঙ্গভূমি যেন পাখির দেশ, সবুজের দেশ। এখানে ভোর হওয়ার আগেই পাখিরা গান গায়, আর সেই সুরেই বাঙালির ঘুম ভাঙে। ব-দ্বীপ পরিবেষ্টিত এই অঞ্চলে বছরের বেশিরভাগ সময় বন্যা আর ফসলের মাঠ ডুবে থাকা ছিল নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়। বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে কাজ না থাকায় অবসরের এই সময়গুলোতে মানুষ গান-বাজনায় মগ্ন থাকতো। বর্ষার রাতে পুঁথির আসর কিংবা বিয়েবাড়িতে ধামাইল পরিবেশন ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এই মাটির গহীনে জন্ম নিয়েছেন হাছন রাজা, বাউল শাহ আবদুল করিম, রাধা রমন দত্ত, দুর্বিন শাহ, উকিল মুন্সি ও পাগল হাসানের মতো কিংবদন্তি বাউলরা। কুষ্টিয়ার বাউল সাধন লালন সাঁইয়ের পদচারণায় ধন্য এই ভূমি। ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি ও পল্লীগীতির বিশাল ভান্ডার আমাদের গর্ব। আব্বাসউদ্দীন, আবদুল আলীম ও নীনা হামিদের মতো শিল্পীরা তাদের কণ্ঠের জাদুতে লোকসঙ্গীতকে বিশ্বময় পরিচিত করেছেন।

বাঙালি জাতি যুদ্ধবাজ নয়, তবে তাদের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সংগ্রাম। এই সংগ্রাম অস্ত্রের নয়, প্রকৃতির সাথে টিকে থাকার। অতি খরা, অতি বৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নদী ভাঙন এখানকার মানুষের জীবনের চিরসঙ্গী। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হলেও বাঙালি দমে যায় না। তারা নতুন করে ঘর তোলে, গাছ লাগায় এবং প্রাণভরে আবার গান গায়। ধান কাটার মৌসুমের দলবদ্ধ গান কিংবা নির্মাণ শ্রমিকদের ইটের ঝাঁকা মাথায় নেওয়ার সুর—সবই যেন তাদের কষ্টের কথা ভুলিয়ে দেওয়ার এক অনন্য মাধ্যম। নৌকা বাইচের হেইও হেইও সুর বা বিয়ের গীতের আনন্দ বাঙালির জীবনকে করে তুলেছে ছন্দময়।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত জ্বালাময়ী দেশাত্মবোধক গান মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। 'তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে' কিংবা 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল'—এই গানগুলো শুধু বিনোদন ছিল না, ছিল এক একটি অস্ত্র। জর্জ হ্যারিসনের 'বাংলাদেশ বাংলাদেশ' গানটি বিশ্ব জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। অস্ত্রের পাশাপাশি সঙ্গীত তখন মারণাস্ত্রের বিপরীতে সাহসের শক্তি হয়ে উঠেছিল।

আজকের ক্রীড়াঙ্গনেও জাতীয় সঙ্গীত ও বিজয়ের সুর খেলোয়াড় ও দর্শকদের মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে। হাটে-মাঠে-ঘাটে গান মানুষকে কেবল বিনোদনই দেয় না, দেয় অনুভূতির শক্তি। যে জাতি অস্ত্র বা হিংসা দিয়ে নয়, বরং সুর ও স্বর দিয়ে বেঁচে থাকার প্রেরণা খুঁজে পায়, সে জাতি অবশ্যই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। গানই আমাদের শান্তির উৎস এবং যুদ্ধের শক্তি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

গানের দেশ বাংলাদেশ: সুরের মূর্ছনায় বেঁচে থাকার প্রেরণা

আপডেট সময় : ১২:৪৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধানের দেশ, গানের দেশ বাংলাদেশ। গোলা ভরা ধান আর গলায় গলায় গান নিয়ে এই বঙ্গভূমি যেন পাখির দেশ, সবুজের দেশ। এখানে ভোর হওয়ার আগেই পাখিরা গান গায়, আর সেই সুরেই বাঙালির ঘুম ভাঙে। ব-দ্বীপ পরিবেষ্টিত এই অঞ্চলে বছরের বেশিরভাগ সময় বন্যা আর ফসলের মাঠ ডুবে থাকা ছিল নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়। বিশেষ করে হাওড় অঞ্চলে কাজ না থাকায় অবসরের এই সময়গুলোতে মানুষ গান-বাজনায় মগ্ন থাকতো। বর্ষার রাতে পুঁথির আসর কিংবা বিয়েবাড়িতে ধামাইল পরিবেশন ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এই মাটির গহীনে জন্ম নিয়েছেন হাছন রাজা, বাউল শাহ আবদুল করিম, রাধা রমন দত্ত, দুর্বিন শাহ, উকিল মুন্সি ও পাগল হাসানের মতো কিংবদন্তি বাউলরা। কুষ্টিয়ার বাউল সাধন লালন সাঁইয়ের পদচারণায় ধন্য এই ভূমি। ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি ও পল্লীগীতির বিশাল ভান্ডার আমাদের গর্ব। আব্বাসউদ্দীন, আবদুল আলীম ও নীনা হামিদের মতো শিল্পীরা তাদের কণ্ঠের জাদুতে লোকসঙ্গীতকে বিশ্বময় পরিচিত করেছেন।

বাঙালি জাতি যুদ্ধবাজ নয়, তবে তাদের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সংগ্রাম। এই সংগ্রাম অস্ত্রের নয়, প্রকৃতির সাথে টিকে থাকার। অতি খরা, অতি বৃষ্টি, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের পাশাপাশি নদী ভাঙন এখানকার মানুষের জীবনের চিরসঙ্গী। নদী ভাঙনে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হলেও বাঙালি দমে যায় না। তারা নতুন করে ঘর তোলে, গাছ লাগায় এবং প্রাণভরে আবার গান গায়। ধান কাটার মৌসুমের দলবদ্ধ গান কিংবা নির্মাণ শ্রমিকদের ইটের ঝাঁকা মাথায় নেওয়ার সুর—সবই যেন তাদের কষ্টের কথা ভুলিয়ে দেওয়ার এক অনন্য মাধ্যম। নৌকা বাইচের হেইও হেইও সুর বা বিয়ের গীতের আনন্দ বাঙালির জীবনকে করে তুলেছে ছন্দময়।

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত জ্বালাময়ী দেশাত্মবোধক গান মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। 'তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে' কিংবা 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে রক্ত লাল'—এই গানগুলো শুধু বিনোদন ছিল না, ছিল এক একটি অস্ত্র। জর্জ হ্যারিসনের 'বাংলাদেশ বাংলাদেশ' গানটি বিশ্ব জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। অস্ত্রের পাশাপাশি সঙ্গীত তখন মারণাস্ত্রের বিপরীতে সাহসের শক্তি হয়ে উঠেছিল।

আজকের ক্রীড়াঙ্গনেও জাতীয় সঙ্গীত ও বিজয়ের সুর খেলোয়াড় ও দর্শকদের মনে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে। হাটে-মাঠে-ঘাটে গান মানুষকে কেবল বিনোদনই দেয় না, দেয় অনুভূতির শক্তি। যে জাতি অস্ত্র বা হিংসা দিয়ে নয়, বরং সুর ও স্বর দিয়ে বেঁচে থাকার প্রেরণা খুঁজে পায়, সে জাতি অবশ্যই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। গানই আমাদের শান্তির উৎস এবং যুদ্ধের শক্তি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin