ভিসার মেয়াদ শেষ হলেই অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হবে, কঠোর হচ্ছে সরকার
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে থেকে যাওয়ার দিন ফুরাচ্ছে। বৈধ ভিসা ছাড়া দেশটিতে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। অভিবাসন কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং চাহিদা-নির্ভর অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে এই নতুন সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক। ক্যানবেরার ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেয়া ভাষণে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সাময়িকভাবে যারা আসবেন তাদের কাছে সাময়িক ভিসা থাকবে, স্থায়ীভাবে যারা আসবেন তাদের স্থায়ী ভিসা থাকবে, আর বৈধ ভিসা না থাকলে অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হবে।
অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে নিট ওভারসিজ মাইগ্রেশন বা এনওএম। চলতি বছরে এই সংখ্যা ২ লাখ ৪৫ হাজার এবং আগামী অর্থবছরে ২ লাখ ২৫ হাজার নির্ধারণ করেছে সরকার। অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের সর্বশেষ হিসাবে মার্চ পর্যন্ত এক বছরে নিট অভিবাসন কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০-তে। আবাসন সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে বাজেট অনুযায়ী এই সংখ্যাকে এখন কেবল পূর্বাভাস নয়, বরং অর্জনযোগ্য লক্ষ্য হিসেবে দেখছে সরকার। তবে টনি বার্ক সতর্ক করেছেন যে, অভিবাসন অনেক নিচে নামিয়ে আনার পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়ার পরিষেবা খাত ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকার বর্তমানে 'ভিসা হপিং' বা এক ভিসার মেয়াদ শেষ হলে অন্য ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা বন্ধ করতে চায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ, কিছু মানুষ স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বারবার ভিসা পরিবর্তন করেন এবং আপিল প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘ সময় দেশটিতে অবস্থান করেন। এটি ঠেকাতে ভিজিটর ভিসাতেও 'নো ফারদার স্টে' শর্ত যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে পর্যটক হিসেবে এসে দেশটির ভেতরে থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন শিক্ষার্থী ভিসার সঙ্গে এখন থেকে সাধারণত পরিবারের সদস্যদের আনার সুযোগ থাকবে না। তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা হবে না। এছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আসিয়ানভুক্ত দেশের নাগরিক এবং পিএইচডির মতো নির্দিষ্ট কোর্সের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোর্স পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে; কোনো শিক্ষার্থী কোর্স শেষ করার পর নতুন ভিসা ছাড়া অন্য কোর্সে যেতে পারবেন না এবং নতুন কোর্সটি হতে হবে আগেরটির চেয়ে উচ্চতর যোগ্যতার স্তরের।
ব্যাকপ্যাকারদের 'ওয়ার্কিং হলিডে মেকার' কর্মসূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। দ্বিতীয় বছর অবস্থানের সুযোগ ৪৫ হাজারে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে এবং এর জন্য আঞ্চলিক এলাকায় ৮৮ দিন কাজ করতে হবে। এরপর লটারি বা ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকবে। তৃতীয় বছরের জন্য সুযোগ মাত্র ৫ হাজার জনের জন্য বরাদ্দ থাকবে, যার জন্য আঞ্চলিক এলাকায় ছয় মাস কাজের প্রয়োজন হবে। তবে অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য এই নিয়মগুলো প্রযোজ্য নয়।
অভিবাসন কমানোর পাশাপাশি দক্ষ কর্মীদের দ্রুত আনার জন্য সরকার 'পয়েন্টস টেস্ট' পুনর্বিন্যাস করছে। নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, মৎস্য ও শিক্ষকতা খাতের আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের ধরতে ১০০ জন অতিরিক্ত কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগ এবং আটকের জন্য ২৫০টি নতুন শয্যা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ভিত্তিহীন 'প্রোটেকশন ভিসা' আবেদন ঠেকানোর লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে, কারণ কিছু দেশ থেকে করা প্রোটেকশন ভিসা আবেদনের ৮৫ শতাংশের বেশি প্রত্যাখ্যাত হয় এবং এসব দেশের আবেদনকারীরাই মোট প্রক্রিয়াধীন আবেদনের প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী।
এ ছাড়া ‘মিনিস্টেরিয়াল ডিরেকশন ১১৯’ পরিবর্তন করে নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, মৎস্য ও শিক্ষকতা খাতের আবেদনকে অগ্রাধিকার দেয়ার ঘোষণা এসেছে।
টনি বার্ক ২০১৫ সালের আগের একটি ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার কথাও বলেছেন।

























