ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি চাপ লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায় ও করণীয় জমি ছাড়ার নোটিশে দিশেহারা নাটোরের দিনমজুরের কলেজপড়ুয়া তিন মেয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও বিদায়

বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল করলো মুডিস

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণী সংস্থা মুডিস রেটিংস বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ (নেগেটিভ) থেকে উন্নীত করে ‘স্থিতিশীল’ (স্ট্যাবল) করেছে। রাজনৈতিক ও বাহ্যিক অর্থনৈতিক চাপ কমে আসা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতি এবং রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় প্রবাহকে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যায়নে মুডিস বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ‘ইস্যুয়ার’ ও ‘সিনিয়র আনসিকিউরড’ রেটিং বি২-এ অপরিবর্তিত রেখেছে। একইসঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ইস্যুয়ার রেটিং ‘নট প্রাইম’-ও আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে।

মুডিসের মতে, বি২ রেটিংয়ের পর্যায়ে যেসব ঝুঁকির কারণে আগে পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ করা হয়েছিল, বর্তমানে সেগুলো অনেকটাই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের প্রতি শক্তিশালী জনসমর্থন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমিয়ে এনেছে। ফলে কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম রাজনৈতিক কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে মুডিস।

বৈদেশিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও মুডিসের মূল্যায়নে গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেড়ে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই রিজার্ভ দিয়ে বর্তমানে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ, নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের আগের অসঙ্গতিগুলো কমে আসাকে এই উন্নতির পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। সংস্থাটি বলেছে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বৃদ্ধির পাশাপাশি রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বাংলাদেশের বাহ্যিক অর্থনৈতিক চাপ সামলানোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে, যা জ্বালানি আমদানি ব্যয় মেটাতে সহায়ক হয়েছে।

আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাকেও ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে মুডিস। তাদের মতে, এই সম্পৃক্ততা বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করছে। এদিকে আইএমএফের পরবর্তী ঋণ কর্মসূচির শর্তাবলি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তবে প্রবৃদ্ধির বিষয়ে সংস্থাটি সতর্কবার্তা দিয়েছে। মুডিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এরপর বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ দ্রুত কমবে না এবং তা ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে বলেও সংস্থাটি সতর্ক করেছে। সব মিলিয়ে, মূল রেটিং অপরিবর্তিত থাকলেও পূর্বাভাস পরিবর্তনকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক উন্নতির স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস নেতিবাচক থেকে স্থিতিশীল করলো মুডিস

আপডেট সময় : ০১:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণী সংস্থা মুডিস রেটিংস বাংলাদেশের সার্বভৌম ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ (নেগেটিভ) থেকে উন্নীত করে ‘স্থিতিশীল’ (স্ট্যাবল) করেছে। রাজনৈতিক ও বাহ্যিক অর্থনৈতিক চাপ কমে আসা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতি এবং রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় প্রবাহকে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যায়নে মুডিস বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ‘ইস্যুয়ার’ ও ‘সিনিয়র আনসিকিউরড’ রেটিং বি২-এ অপরিবর্তিত রেখেছে। একইসঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ইস্যুয়ার রেটিং ‘নট প্রাইম’-ও আগের মতো বহাল রাখা হয়েছে।

মুডিসের মতে, বি২ রেটিংয়ের পর্যায়ে যেসব ঝুঁকির কারণে আগে পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ করা হয়েছিল, বর্তমানে সেগুলো অনেকটাই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের প্রতি শক্তিশালী জনসমর্থন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমিয়ে এনেছে। ফলে কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম রাজনৈতিক কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছে মুডিস।

বৈদেশিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিও মুডিসের মূল্যায়নে গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল প্রায় ২১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে বেড়ে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই রিজার্ভ দিয়ে বর্তমানে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেকর্ড রেমিট্যান্স প্রবাহ, নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের আগের অসঙ্গতিগুলো কমে আসাকে এই উন্নতির পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে দেখছে সংস্থাটি। সংস্থাটি বলেছে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বৃদ্ধির পাশাপাশি রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহ বাংলাদেশের বাহ্যিক অর্থনৈতিক চাপ সামলানোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে, যা জ্বালানি আমদানি ব্যয় মেটাতে সহায়ক হয়েছে।

আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সম্পৃক্ততাকেও ইতিবাচক হিসেবে চিহ্নিত করেছে মুডিস। তাদের মতে, এই সম্পৃক্ততা বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করছে। এদিকে আইএমএফের পরবর্তী ঋণ কর্মসূচির শর্তাবলি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তবে প্রবৃদ্ধির বিষয়ে সংস্থাটি সতর্কবার্তা দিয়েছে। মুডিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এরপর বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ দ্রুত কমবে না এবং তা ৯ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে বলেও সংস্থাটি সতর্ক করেছে। সব মিলিয়ে, মূল রেটিং অপরিবর্তিত থাকলেও পূর্বাভাস পরিবর্তনকে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সাম্প্রতিক উন্নতির স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin