ঢাকার দুই প্রান্তকে যুক্ত করতে আসছে নতুন মেট্রোরেল লাইন
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট বাস্তবায়নের উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে। গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭.২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সভায় এটিসহ মোট ১৫টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
‘ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫): সাউদার্ন রুট’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সর্বশেষ পুনর্মূল্যায়নে এই প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং বাকি প্রায় ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ডের (ইডিসিএফ) ঋণ থেকে আসবে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ধরা হলেও, বিভিন্ন পর্যালোচনার মাধ্যমে তা ৯,১১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত।
প্রকল্পের নথি অনুসারে, ১৭.২০ কিলোমিটার রুটের মধ্যে ১৩.১০ কিলোমিটার থাকবে মাটির নিচে এবং ৪.১০ কিলোমিটার হবে উড়ালপথ। এই করিডোরে মোট ১৫টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে ১১টি পাতাল ও চারটি উড়াল স্টেশন। রুটটি গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, রাসেল স্কয়ার, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও এবং আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত অংশ মূলত মাটির নিচ দিয়ে এবং এরপর আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত অংশ উড়ালপথে নির্মিত হবে। পাতাল টানেল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬ থেকে ৩৮ মিটার গভীরে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। হাতিরঝিলের নিচ দিয়ে টানেল নেওয়ায় নির্মাণকাজকে বেশ জটিল ও ব্যয়বহুল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি চালু হলে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ২৮ মিনিট, যেখানে বর্তমানে যানজটের কারণে একই পথে যাতায়াতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। শুরুতে ছয় কোচের ১৯ সেট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে প্রতিটি ট্রেনে সর্বোচ্চ ২,৩১২ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকবে। ট্রেন চলাচলের ব্যবধান শুরুতে ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড রাখা হলেও পরবর্তীতে তা ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করতে পারবেন এবং বছরে প্রায় ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পে এডিবি সর্বোচ্চ ৩ বিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ সর্বোচ্চ ১.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরে ৩০ কোটি ডলার ছাড় করার কথা রয়েছে। যদিও ডিপিপির আর্থিক বিশ্লেষণে নিট বর্তমান মূল্য ঋণাত্মক ৫,১৯৯ কোটি টাকা এবং বেনিফিট-কস্ট রেশিও ০.৯৫, তবুও সময় সাশ্রয়, যানজট হ্রাস, জ্বালানি ব্যয় কমানো, কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মতো বৃহত্তর সুফল বিবেচনায় প্রকল্পটিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এছাড়া পুনর্বাসন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪,৭১৬ কোটি টাকা।
প্রকল্পটির প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মৌলিক প্রকৌশল নকশা, বিস্তারিত নকশা, দরপত্র প্রক্রিয়ায় সহায়তা, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা ও পুনর্বাসন কর্মপরিকল্পনার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় এসব কাজ সম্পন্ন হয়। সিপি-১ থেকে সিপি-৪-এর চূড়ান্ত দরপত্র নথিতে এডিবির সম্মতি পাওয়া গেছে, সিপি-৬ ও সিপি-৭-এর কাগজপত্র পর্যালোচনায় রয়েছে এবং সিপি-৮ ও সিপি-৯-এর নথিও তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, ভূমি অধিগ্রহণে প্রায় এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে এবং শুধু পাতাল টানেল নির্মাণেই প্রায় পাঁচ বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে। জমি কেনার অর্থ সরকার বহন করবে এবং বৈদেশিক ঋণ চূড়ান্ত হতে কিছুটা সময় লাগলেও প্রাথমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।



























