ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ শাল্লায় বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সাবেক উপদেষ্টা আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণ, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি, দুর্নীতি এবং বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিশনের ঢাকা কার্যালয়ে চলমান একটি অনুসন্ধানের নথির সঙ্গে নতুন এই অভিযোগটি সংযুক্ত করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ পাইয়ে দিতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৬ জন ডিসি পদায়নের বিপরীতে প্রতি জনের কাছ থেকে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার অনুমোদন করতে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যেও তার সম্পৃক্ততার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা এবং সেই বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালেও নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সুনির্দিষ্টভাবে, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিতে ১০ কোটি টাকা, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দিতে ৬৫ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে দুদকে জমা পড়া আবেদনে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন। এই অর্থ পাচারের কাজে তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সাবেক উপদেষ্টা আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান

আপডেট সময় : ০৬:১৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণ, নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার কারসাজি, দুর্নীতি এবং বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিশনের ঢাকা কার্যালয়ে চলমান একটি অনুসন্ধানের নথির সঙ্গে নতুন এই অভিযোগটি সংযুক্ত করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ পাইয়ে দিতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৬ জন ডিসি পদায়নের বিপরীতে প্রতি জনের কাছ থেকে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার অনুমোদন করতে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যেও তার সম্পৃক্ততার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা এবং সেই বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালেও নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সুনির্দিষ্টভাবে, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিতে ১০ কোটি টাকা, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দিতে ৬৫ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে দুদকে জমা পড়া আবেদনে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করেছেন। এই অর্থ দিয়ে তিনি বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের একটি বড় ব্যবসায়ী গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন। এই অর্থ পাচারের কাজে তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin