মাদক মামলায় সাজার চেয়ে খালাসের হার বেশি, নেপথ্যে আইনি ফাঁক
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

দেশে মাদকবিরোধী অভিযানে নিয়মিত মাদক উদ্ধার এবং কারবারিদের গ্রেপ্তার করা হলেও আদালতে তাদের সাজার হার অত্যন্ত হতাশাজনক। মামলার তদন্তে দুর্বলতা, আলামত সংরক্ষণে গাফিলতি, সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং রাসায়নিক প্রতিবেদনের অসংগতিসহ নানা আইনি ফাঁক গলিয়ে চিহ্নিত আসামিদের বড় একটি অংশ পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সাজার চেয়ে খালাসের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সংস্থাটি এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৩১টি মামলা দায়ের করেছে, যেখানে আসামি করা হয়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ৪২৫ জনকে। অথচ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সাজা হয়েছে মাত্র ১৭ হাজার ৪৩৮ জনের। একই সময়ে মোবাইল কোর্টে আরও এক লাখ ৩ হাজার ৮৬৮টি মামলা হয়েছে। এসব তথ্য প্রমাণ করে যে, বিপুল সংখ্যক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও সাজার তুলনায় খালাসের হারই বেশি।
সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের ২৬ জেলার আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া ৫০০টি মাদক মামলার রায়ে দেখা গেছে, ২০৪ মামলায় সাজা হয়েছে এবং ২৯৬ মামলায় সব আসামি খালাস পেয়েছে। অর্থাৎ, সাজার হার ৪১ শতাংশ এবং খালাসের হার ৫৯ শতাংশ। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের রায়ের ভিত্তিতে এই চিত্র উঠে এসেছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে শুধু ডিএনসি নয়, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের মতো বিভিন্ন বাহিনী নিয়মিত অংশ নেয়। সাম্প্রতিক জব্দ করা বড় চালানগুলো মাদকের বিস্তারের ভয়াবহতা নির্দেশ করে। গত ১১ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ ও রামুতে বিজিবি এক দিনে ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। এছাড়াও ২৩ জুলাই নাফ নদী দিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা এক লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা এবং ১৭ আগস্ট কুমিল্লার জাগুরজুলিতে ১৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত প্রক্রিয়ার বড় দুর্বলতা হলো, চালান বহনকারীকে গ্রেপ্তার করেই তদন্ত অনেক সময় থেমে যায়। অথচ ১০ লাখ বা তিন লাখ ইয়াবার মতো বড় চালান কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তির পক্ষে পরিবহন করা প্রায় অসম্ভব। এই নেটওয়ার্কের পেছনে থাকা অর্থদাতা, পৃষ্ঠপোষক, মজুতদার ও মূল কারবারিদের বিষয়ে অভিযোগপত্রে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে না। ফলে চালানটি কে পাঠিয়েছে, টাকা কার কাছ থেকে এসেছে বা কোথায় মজুত হওয়ার কথা ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর না মেলায় বড় মাদকচক্রগুলো অক্ষত থেকে যাচ্ছে।
























