হবিগঞ্জে ৫৫ বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ও মাদক জব্দ
- আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিকস, মদ ও গাঁজা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত এসব চোরাচালান পণ্য ও মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৬ লাখ ৭ হাজার ৪০০ টাকা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে ৫৫ বিজিবির আওতাধীন সিন্দুরখান, সাতছড়ি ও তেলিয়াপাড়া বিওপির টহল দল পৃথক চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে সিন্দুরখান বিওপির সদস্যরা মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিমাইলত এলাকা থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৪ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেন। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাতছড়ি বিওপির একটি দল হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গারোটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আরও ৯৬ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে।
একই রাতে তেলিয়াপাড়া বিওপির টহল দল মাধবপুর উপজেলার ২০ নম্বর চা-বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ করে। পৃথক এসব অভিযানে সব মিলিয়ে ১৪০ বোতল ভারতীয় মদ ও ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার বিকেলে ৫৫ বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল মাধবপুর উপজেলার পুরাতন মহাসড়কের সুরমা চা-বাগান এলাকায় অভিযান চালায়। সীমান্ত থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার ভেতরে টহল দেওয়ার সময় রাস্তার পাশে একটি সন্দেহভাজন বালুবাহী ড্রাম ট্রাক দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। পরে ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে বালুর নিচে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকস জব্দ করা হয়। বিজিবির ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বালু পরিবহনের আড়ালে চোরাকারবারিরা এসব ভারতীয় পণ্য পাচারের চেষ্টা করছিল। তবে বিজিবির বিশেষ তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
জব্দ করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, দেশের অর্থনীতি ও জননিরাপত্তা রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি চোরাচালান রোধে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।




























