পাঁচ বছরে এভিয়েশন খাতে পরিবর্তন না এলে জবাবদিহি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

আগামী পাঁচ বছর পরও দেশের এভিয়েশন খাতের মানুষ যদি একইভাবে হতাশ থাকে, তবে সরকারকে এর দায়ভার গ্রহণ ও জবাবদিহি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদের শেষে যদি পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসে, তবে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে।
গত ১৫-১৬ বছর এভিয়েশন খাতে নীতিগত সহায়তার অভাব ছিল বলে স্বীকার করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, অতীতে গণতন্ত্র না থাকায় সরকারি নীতিব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো এ খাতকে সহায়তা করেনি। তবে এখন বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও গতিশীল এভিয়েশন খাতে পরিণত করতে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি অতীতের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম নিশ্চিত করতে কাজ করছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে এটি পুরোপুরি চালু হবে। এর মাধ্যমে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করতে পারবেন। তিনি বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালন সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের করতে বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য পূরণে এভিয়েশন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি জানান, ৪২ বছর পর বেসামরিক বিমান চলাচলের নিয়ম পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা এতদিন অংশীজনদের জন্য বাধা হয়ে ছিল। এছাড়া যাত্রী হয়রানি কমাতে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় কর্মীদের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে এবং কার্গোর দরজাও দ্রুত খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে লাগেজ বেল্টে পণ্য পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, আগের সরকার জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে যে চুক্তি বাতিল করেছিল, তা বর্তমান সরকার পুনরায় চালু করেছে। প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পটি নিয়ে জাপানের সঙ্গে পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ এবং নতুন উড়োজাহাজ আনা, এমআরও ও বাজেট এয়ারলাইনস উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন। এতে নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তাসহ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।




























