হুতিদের ঠেকাতে ট্রাম্পের কাছে সৌদির হামলার অনুরোধ, মেলেনি সাড়া
- আপডেট সময় : ০১:২৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। প্রণালির ঠিক মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন বা পারিম দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে তারা। এর মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর হুতিদের কর্তৃত্ব আরও শক্তিশালী হলো। তবে এই পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার অনুরোধ জানিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। কিন্তু ট্রাম্প সেই অনুরোধে সাড়া দেননি বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী মায়ুন দ্বীপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর হুতি যোদ্ধারা সেখানে নৌকাযোগে এসে পৌঁছায় এবং দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, হুতিরা এখন বাব এল-মান্দেব এলাকা ও মায়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাহাড়ি এই দ্বীপটি থেকে তারা পুরো প্রণালির ওপর নজরদারি চালাতে পারবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, হুতি যোদ্ধারা সামরিক যান নিয়ে উপকূলজুড়ে টহল দিচ্ছে।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্তকারী বাব এল-মান্দেব প্রণালিটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথ দিয়েই পণ্যবাহী জাহাজগুলো সুয়েজ খালের দিকে যায়। এছাড়া সৌদি আরবের তেল পরিবহনের জন্যও এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রুট। এই প্রণালির আশপাশে জুকার, মায়ুন, গ্রেট হানিশ ও লিটল হানিশ নামের চারটি কৌশলগত দ্বীপ রয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারই জুকার দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল হুতিরা। বর্তমানে হানিশ দ্বীপপুঞ্জে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দুই হাজারের বেশি সেনাকে তারা অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে। অবরুদ্ধ সেনারা চরম খাদ্য ও পানি সংকটে ভুগছেন এবং উদ্ধারের জন্য বিমান পাঠানোর আকুতি জানিয়েছেন।
এদিকে ইয়েমেনের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ফোনালাপে যুবরাজ পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কথা জানান। এর কয়েক ঘণ্টা পর দ্বিতীয়বার ফোন করে তিনি হুতিদের দমনে মার্কিন বিমান হামলার সরাসরি অনুরোধ জানান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও ওয়াশিংটন হুতিদের অবস্থান ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য রিয়াদকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে সৌদিতে অবস্থানরত দুই শতাধিক মার্কিন সেনা রিয়াদকে এই ধরনের ‘নন-কাইনেটিক’ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের প্রথম ফোনালাপের সময়ই হুতিরা উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং পরবর্তীতে শহরটি দখল করে নেয়। এর পরদিনই শুক্রবার মায়ুন দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল হুতিরা।





























