ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক

ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সৌদিকে ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইয়েমেনে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। এই সংঘাতের আঁচ এখন সরাসরি এসে পড়ছে পার্শ্ববর্তী দেশ সৌদি আরবের ওপর, যার ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হুতি বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর ফলে বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর তাদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অভিযোগ, দেশের মধ্যাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে হুতিদের চালানো সাম্প্রতিক গোলাবর্ষণে অন্তত তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এটি দ্বিতীয় হামলা। এর আগের হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু এবং ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে মারিবের এই হামলার বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, হুতিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে। হুতিদের পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবা বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে আরও ৪০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে বুধবার হুতিরা দাবি করেছিল, মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ইয়েমেনের ছয়টি প্রদেশে ৫৪টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার জবাবে তীব্র প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে হুতি গোষ্ঠীটি। এছাড়া, গত মঙ্গলবার হুতিরা দাবি করে যে বিগত কয়েক দিনে তাদের অবস্থানে ১২১টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশের একটি কারাগারে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও সাতজন।

এই সংঘাতের প্রভাব এখন সৌদি আরবের অভ্যন্তরেও ছড়িয়ে পড়ছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, হুতিরা সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও জাজান অঞ্চল লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জোট বাহিনী। সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ খামিস মুশাইত ও আবহা এলাকায় একাধিক সতর্কতা জারি করলেও এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সৌদি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের কিং খালিদ এবং তাইফের কিং ফাহদ বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনে হামলা চালাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব এবং শাস্তি অবশ্যই দেওয়া হবে। প্রতিশোধ হিসেবে হুতিরা আবহা, নাজরান ও জিজানে অবস্থিত সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা, ইকোনমিক সিটি এবং খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে ইয়েমেনে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। গত সপ্তাহে হুতি বিদ্রোহীরা হোদেইদা ও তাইজ এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালায়। এর জবাবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও আল-জাওফসহ বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা অভিযান ও সামরিক তৎপরতা জোরদার করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সাম্প্রতিক এই সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সৌদিকে ঘিরে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:১৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী এবং ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে লড়াই নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। এই সংঘাতের আঁচ এখন সরাসরি এসে পড়ছে পার্শ্ববর্তী দেশ সৌদি আরবের ওপর, যার ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হুতি বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এর ফলে বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর তাদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অভিযোগ, দেশের মধ্যাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশে হুতিদের চালানো সাম্প্রতিক গোলাবর্ষণে অন্তত তিন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এটি দ্বিতীয় হামলা। এর আগের হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু এবং ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে মারিবের এই হামলার বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, হুতিদের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে। হুতিদের পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবা বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে আরও ৪০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর আগে বুধবার হুতিরা দাবি করেছিল, মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ইয়েমেনের ছয়টি প্রদেশে ৫৪টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার জবাবে তীব্র প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে হুতি গোষ্ঠীটি। এছাড়া, গত মঙ্গলবার হুতিরা দাবি করে যে বিগত কয়েক দিনে তাদের অবস্থানে ১২১টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশের একটি কারাগারে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও সাতজন।

এই সংঘাতের প্রভাব এখন সৌদি আরবের অভ্যন্তরেও ছড়িয়ে পড়ছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, হুতি বিদ্রোহীরা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানিয়েছেন, হুতিরা সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও জাজান অঞ্চল লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জোট বাহিনী। সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ খামিস মুশাইত ও আবহা এলাকায় একাধিক সতর্কতা জারি করলেও এসব হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সৌদি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের কিং খালিদ এবং তাইফের কিং ফাহদ বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনে হামলা চালাচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব এবং শাস্তি অবশ্যই দেওয়া হবে। প্রতিশোধ হিসেবে হুতিরা আবহা, নাজরান ও জিজানে অবস্থিত সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা, ইকোনমিক সিটি এবং খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে ইয়েমেনে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। গত সপ্তাহে হুতি বিদ্রোহীরা হোদেইদা ও তাইজ এলাকায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চালায়। এর জবাবে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও আল-জাওফসহ বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা অভিযান ও সামরিক তৎপরতা জোরদার করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সাম্প্রতিক এই সংঘাতের জেরে ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin