কাউখালীতে নতুন সেতুর কাজে বাধা দেওয়া ভবন উচ্ছেদের নোটিশ
- আপডেট সময় : ০৪:৫৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরের কাউখালীতে আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত ভবন ও অবৈধ স্থাপনার কারণে নতুন সেতু নির্মাণ এবং সংযোগ সড়কের কাজ থমকে রয়েছে। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই জনভোগান্তি দূর করতে অবশেষে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
পিরোজপুর সওজ বিভাগের কাউখালী উপ-বিভাগ থেকে অবৈধ স্থাপনাটি আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ভবন মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবনটি অপসারণ করা না হলে ১৪ সেপ্টেম্বরের পর যেকোনো সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে সওজ সূত্রে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সওজ সূত্রে জানা যায়, গড়িয়ারপাড়-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠী-কাউখালী-নৈকাঠী (জেড-৮০৩৩) জেলা মহাসড়কের ৪৪তম কিলোমিটারে কচুয়াকাঠী বেইলি সেতুর উত্তর পাশে সওজের জায়গায় অবৈধভাবে টিনশেড, আধাপাকা ঘর ও দোকান গড়ে তোলা হয়েছে। কচুয়াকাঠী মৌজার ২৪ নম্বর জেএল, ৩ নম্বর বিএস খতিয়ান এবং ১৬৩ নম্বর বিএস দাগের এই জমিতে থাকা পরিত্যক্ত ভবনের কারণে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চালকেরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এটি একদিকে যেমন সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সেখানে নতুন পিসি গার্ডার সেতু ও এর সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণের কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি এই সমস্যা নিয়ে গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘কাউখালীতে পরিত্যক্ত ভবন আটকে আছে নতুন ব্রিজ নির্মাণ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় সড়ক বিভাগ। গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কাউখালী উপ-বিভাগের প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল-আমিন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে (স্মারক নম্বর: ৩৫.০১.৭৯৪৭.৭৭৬.১৬.০০১.২২-১৩৭৫) ভবনটির দখলদার আবু জাফর মো. আঃ হককে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ‘মহাসড়ক আইন, ২০২১’ অনুযায়ী উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হবে।
পিরোজপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল জানান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর ইতোমধ্যে এই পিসি গার্ডার সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন এবং কাজের ঠিকাদারি আদেশও দেওয়া হয়েছে। সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণে কোনো সমস্যা না থাকলেও সংযোগ সড়ক তৈরির জন্য এই পরিত্যক্ত ভবন ও অবৈধ স্থাপনাগুলো সরানো অত্যন্ত জরুরি। এ কারণেই আইনি নোটিশ জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেইলি সেতুর উত্তর পাশে সড়কের ওপর এই ভবনটি থাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা কোনো গাড়ি দেখা যায় না। ফলে এই ব্যস্ত সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অটোশ্রমিক নেতা বলেন, এই ভবনের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে ভবন মালিককে যেন আইনগতভাবে দায়ী করা হয়, এমন দাবি তুলেছেন শ্রমিকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০-এর দশকে সড়কটি নির্মাণের সময় অন্য জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ পেলেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় এই ভবনের মালিক মাওলানা আব্দুল হক কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। পরবর্তীতে সওজ ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ নিলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সম্প্রতি সওজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মানবিক বিবেচনায় তাঁকে ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় আদালতে আপিল করেন। সড়ক বিভাগ বিষয়টি আইনিভাবে মোকাবিলা করে এখন উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দাবি, জনস্বার্থ বিবেচনা করে এবং নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করতে আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেন।


























