ওসামা বিন লাদেনের নির্দেশেই কি খুন হন আহমদ শাহ মাসউদ?
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের পানশির উপত্যকায় এক আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন তালেবানবিরোধী জোট ‘নর্দার্ন অ্যালায়েন্স’-এর প্রধান আহমদ শাহ মাসউদ। এর ঠিক দুই দিন পরই যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। ধারণা করা হয়, তালেবানের আতিথ্য সুরক্ষিত রাখতে এবং তাদের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরিয়ে দিতে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। ‘নিউজউইক’-এর এক প্রতিবেদনে এ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাংবাদিক পরিচয়ে দুই ব্যক্তি বেলজিয়ান টেলিভিশনের কার্ড দেখিয়ে পানশির উপত্যকার শিবিরে মাসউদের সঙ্গে দেখা করতে যান। কড়া নিরাপত্তা তল্লাশি পেরিয়ে ভেতরে ঢোকার পর তারা যখন মাসউদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই তাদের ভিডিও ক্যামেরার ভেতর লুকিয়ে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার মাত্র দুই দিন আগে এই ঘটনা ঘটলেও, নর্দার্ন অ্যালায়েন্স ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে মাসউদের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেনি। উত্তর আফগানিস্তানে শক্তিশালী বিদ্রোহী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে তালেবানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করা মাসউদ ছিলেন তৎকালীন তালেবানবিরোধী লড়াইয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
মাসউদকে সরিয়ে দেওয়া বিন লাদেন ও তার সহযোগীদের জন্য ছিল একটি বড় কৌশলগত চাল। কারণ বিন লাদেন ভালো করেই জানতেন, ৯/১১ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র যখন আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করবে, তখন তালেবান ও আল-কায়েদার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মাসউদ মার্কিন বাহিনীর জন্য সবচেয়ে বড় সহযোগী হতে পারতেন। তাই আগেভাগেই তাকে পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মাসউদের আকস্মিক মৃত্যুর খবর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কেও চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। ৯/১১ হামলার পর আফগানিস্তানে পাঠানো সিআইএ-র প্রথম দলটির নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা গ্যারি বার্টসেন সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে বলেন, “এই খবরটি আমাকে ভেতর থেকে অসুস্থ করে দিয়েছিল। আমি ধরে নিয়েছিলাম, নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের এখানেই বুঝি শেষ।” তবে সিআইএ-র তৎকালীন পরিচালক জর্জ টেনেটের বিশ্বাস ছিল ভিন্ন। তিনি পরে লিখেছিলেন, ৯/১১ হামলার প্রাক্কালে আল-কায়েদার হাতে মাসউদের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড তাদের পরবর্তী সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারত, যদি না তারা উত্তরের অন্যান্য যুদ্ধবাজ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন।
টেনেট তাঁর স্মৃতিকথায় ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর তৎকালীন প্রধান জেনারেল মাহমুদ আহমেদের সঙ্গে একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন। আল-কায়েদা ও তালেবান প্রধান মোল্লা ওমরকে নিয়ে আলোচনার সময় মাহমুদ ওমরের পক্ষ নেন। তিনি সিআইএ-কে পরামর্শ দেন, ওসামা বিন লাদেনকে হস্তান্তরের জন্য তালেবান কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করতে। টেনেট বলেন, দুপুরের খাবারের টেবিলে মাহমুদ অত্যন্ত সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করলেও তালেবান ও আল-কায়েদা ইস্যুতে নিজের অবস্থানে একেবারে অনড় ছিলেন। তবে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যখন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পাকিস্তানের সহযোগিতা দাবি করে, তখন মাহমুদ আবারও মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং এর পরপরই পাকিস্তানের মাটিতে গোপনে মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।

























