সিঙ্গাপুরে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১২:৩৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে সিঙ্গাপুরে থাকা সব স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই সম্পদগুলো অবরুদ্ধ করতে সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ দেন। দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মো. মশিউর রহমান আদালতে এই আবেদনটি জমা দিয়েছিলেন।
আদালতে পেশ করা আবেদনে জানানো হয়, সাবেক এই মন্ত্রী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে একটি যৌথ টাস্কফোর্স। দুদক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে গঠিত ৯ সদস্যের এই দলটির অনুসন্ধানে সিঙ্গাপুরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর সহযোগীদের নামে আটটি ব্যাংক হিসাব, একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের পদ এবং বিপুল মূল্যের স্থাবর সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে।
দাপ্তরিক নথির বরাতে আবেদনে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের এসবিসি ব্যাংকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামানের যৌথ নামে তিনটি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ হিসাব রয়েছে। এ ছাড়া ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক পিজেএসসি, সিটিব্যাংক ও ডিবিএস ব্যাংকেও তাঁদের বিভিন্ন হিসাব ও আমানতের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ২০১১ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ৩ মে পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের ‘জাসা ওশান পিটিই লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক এই ভূমিমন্ত্রী।
অনুসন্ধান দল আরও জানতে পেরেছে, ২০১৯ সালের ৭ জুন সিঙ্গাপুরে ১৬ লাখ ১২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার মূল্যে একটি অভিজাত স্থাবর সম্পত্তি কেনা হয়, যার প্রত্যক্ষ মালিকানা রয়েছে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে। দুদকের আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, অভিযুক্তরা সিঙ্গাপুরে থাকা এসব সম্পত্তি দ্রুত হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই সম্পদগুলো যদি হাতবদল হয়ে যায়, তবে রাষ্ট্রের অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতি হবে।
এমন পরিস্থিতিতে সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবগুলো অবিলম্বে অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের তাগিদ দেয় দুদক। এজন্য ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধ’ (এমএলএআর)-এর আওতায় সিঙ্গাপুরের বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।





























