ঢাকা ১০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ৯ দেশে সুনামি সতর্কতা মেসির বিদায়ী ম্যাচে আর্জেন্টিনার ফুটবলে নতুন তারা লিওনেল ফ্লোরেস মেঘনার তীব্র ভাঙনে চরম ঝুঁকিতে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট মাছের আড়ত মানুষকে চূড়ান্ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় যে সাতটি কবিরা গুনাহ মস্তিষ্কে টিউমার নিয়ে লড়াই, অভিনয়ে ফেরার অপেক্ষায় তানিয়া বৃষ্টি ভারতে ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে বিতর্ক ও দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ঢাকায় আজ আকাশ মেঘলাসহ হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস আইএফআইসি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে ২৯ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা কৌশলগত স্বার্থে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ভারত ইরান যুদ্ধ শেষ হলেই তেলের দাম কমবে : ট্রাম্প

২৫তম আম্মান আন্তর্জাতিক বইমেলা: জর্ডানে ইরাকি সাহিত্যের জয়গান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আম্মান শহরকে প্রথম দর্শনে বইয়ের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্কের বিষয়টি সহজে ধরা পড়ে না। পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা ফ্যাকাশে পাথরের বাড়ি আর সরু রাস্তার এই শহরটি যেন কোনো প্রাচীন ভ্রমণপথের অংশ। কিন্তু প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই পাথুরে শহরটি যেন অন্য এক ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, যখন দেশের নানা প্রান্ত থেকে বইপ্রেমীরা এখানে জড়ো হন।

এবারের আয়োজনের একটি বিশেষ দিক হলো ‘ইরাককে সম্মানিত অতিথি হিসেবে নির্বাচন করা’। এই সিদ্ধান্ত কেবল দুই প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক নয়, বরং এটি হাজার বছরের পুরনো সাহিত্যিক ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক। জর্ডানের প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে আম্মান বইমেলার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, যখন জর্ডানের কয়েকজন প্রকাশক পেশাগত স্বার্থ ও বই বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগই কালক্রমে আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপ নিয়েছে।

গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই মেলা আরব বিশ্বের প্রকাশক ও পাঠকদের জন্য যোগাযোগের একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সালের মেলায় ২২টি দেশের প্রায় ৩৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। জর্ডানের ভৌগোলিক অবস্থান, যা লেভান্ত, ইরাক ও আরব উপদ্বীপের সংযোগস্থলে অবস্থিত, এই মেলাকে মানুষ ও সংস্কৃতির চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথে পরিণত করেছে।

২০২৬ সালের এই আসরটি মেলাটির ২৫তম সংস্করণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আয়োজকদের এক ধরনের সাংস্কৃতিক জেদ ও সাফল্যের প্রতীক। আগস্টে নিবন্ধন শেষ হওয়ার সময় প্রায় ৭৩৩টি আবেদন জমা পড়েছিল, যা এবারের আয়োজনের ব্যাপক আগ্রহের প্রমাণ দেয়। ইরাককে সম্মানিত অতিথি করায় মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন জ্ঞানচর্চা ও আধুনিক ইরাকি সাহিত্যের উত্তরাধিকার আরব বিশ্বের পাঠকের কাছে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যতের বইমেলা কেবল বই বিক্রির জায়গা নয়, বরং পাঠক তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করবে। আজকের ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মোবাইল ফোনের আধিপত্যের মাঝেও কাগজের বইয়ের পাতার শব্দ ও ঘ্রাণের আবেদন এখনো অমলিন। আম্মান বইমেলা সেই শারীরিক সম্পর্কটিকে মানুষের সামনে ফিরিয়ে আনে, যেখানে লেখক-পাঠকের কথোপকথন ও নতুন বইয়ের সন্ধান পাওয়ার অনিশ্চয়তা মেলার মূল সৌন্দর্য হয়ে ওঠে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে যখন মেলার দরজা খুলবে, তখন আম্মানের পাহাড়ের বাতাস বয়ে যাবে নতুন বইয়ের সৌরভ নিয়ে। কোনো তরুণ লেখক হয়তো প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলবেন, কোনো শিশু কিনবে তার প্রথম গল্পের বই, আর কোনো অনুবাদক খুঁজে পাবেন নতুন কোনো উপন্যাস। এভাবেই সাহিত্য ভ্রমণের মাধ্যমে এক শহর অন্য শহরের সঙ্গে কথা বলে, আর বইমেলা হয়ে ওঠে সেই মহাজাগতিক সংযোগস্থল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

২৫তম আম্মান আন্তর্জাতিক বইমেলা: জর্ডানে ইরাকি সাহিত্যের জয়গান

আপডেট সময় : ১১:১৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আম্মান শহরকে প্রথম দর্শনে বইয়ের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্কের বিষয়টি সহজে ধরা পড়ে না। পাহাড়ের ঢালে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা ফ্যাকাশে পাথরের বাড়ি আর সরু রাস্তার এই শহরটি যেন কোনো প্রাচীন ভ্রমণপথের অংশ। কিন্তু প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই পাথুরে শহরটি যেন অন্য এক ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, যখন দেশের নানা প্রান্ত থেকে বইপ্রেমীরা এখানে জড়ো হন।

এবারের আয়োজনের একটি বিশেষ দিক হলো ‘ইরাককে সম্মানিত অতিথি হিসেবে নির্বাচন করা’। এই সিদ্ধান্ত কেবল দুই প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক নয়, বরং এটি হাজার বছরের পুরনো সাহিত্যিক ইতিহাসের এক অনন্য স্মারক। জর্ডানের প্রকাশনা ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে আম্মান বইমেলার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালে, যখন জর্ডানের কয়েকজন প্রকাশক পেশাগত স্বার্থ ও বই বিতরণব্যবস্থা শক্তিশালী করতে পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেন। সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগই কালক্রমে আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপ নিয়েছে।

গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই মেলা আরব বিশ্বের প্রকাশক ও পাঠকদের জন্য যোগাযোগের একটি প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ২০১৯ সালের মেলায় ২২টি দেশের প্রায় ৩৫০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছিল। জর্ডানের ভৌগোলিক অবস্থান, যা লেভান্ত, ইরাক ও আরব উপদ্বীপের সংযোগস্থলে অবস্থিত, এই মেলাকে মানুষ ও সংস্কৃতির চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথে পরিণত করেছে।

২০২৬ সালের এই আসরটি মেলাটির ২৫তম সংস্করণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আয়োজকদের এক ধরনের সাংস্কৃতিক জেদ ও সাফল্যের প্রতীক। আগস্টে নিবন্ধন শেষ হওয়ার সময় প্রায় ৭৩৩টি আবেদন জমা পড়েছিল, যা এবারের আয়োজনের ব্যাপক আগ্রহের প্রমাণ দেয়। ইরাককে সম্মানিত অতিথি করায় মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন জ্ঞানচর্চা ও আধুনিক ইরাকি সাহিত্যের উত্তরাধিকার আরব বিশ্বের পাঠকের কাছে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যতের বইমেলা কেবল বই বিক্রির জায়গা নয়, বরং পাঠক তৈরির কারখানা হিসেবে কাজ করবে। আজকের ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মোবাইল ফোনের আধিপত্যের মাঝেও কাগজের বইয়ের পাতার শব্দ ও ঘ্রাণের আবেদন এখনো অমলিন। আম্মান বইমেলা সেই শারীরিক সম্পর্কটিকে মানুষের সামনে ফিরিয়ে আনে, যেখানে লেখক-পাঠকের কথোপকথন ও নতুন বইয়ের সন্ধান পাওয়ার অনিশ্চয়তা মেলার মূল সৌন্দর্য হয়ে ওঠে।

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে যখন মেলার দরজা খুলবে, তখন আম্মানের পাহাড়ের বাতাস বয়ে যাবে নতুন বইয়ের সৌরভ নিয়ে। কোনো তরুণ লেখক হয়তো প্রকাশকের সঙ্গে কথা বলবেন, কোনো শিশু কিনবে তার প্রথম গল্পের বই, আর কোনো অনুবাদক খুঁজে পাবেন নতুন কোনো উপন্যাস। এভাবেই সাহিত্য ভ্রমণের মাধ্যমে এক শহর অন্য শহরের সঙ্গে কথা বলে, আর বইমেলা হয়ে ওঠে সেই মহাজাগতিক সংযোগস্থল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin