‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের চেয়েও এখন সংকট বেশি’: সারজিস আলম
- আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের ছয় মাস পার করলেও তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পরদিনই ক্ষমতায় এসেছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক সরকার না থাকলেও তখনকার সময়ে এত সংকট দেখা যায়নি, অথচ বর্তমান সরকার একের পর এক সংকট তৈরি করে যাচ্ছে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঝালকাঠি শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় জেলা এনসিপি আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারজিস আলম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গ্যাস সংকট, তীব্র লোডশেডিং ও কৃষকের সার না পাওয়ার মতো প্রতিটি জায়গায় দলীয়করণ করা হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করায় তাদের সহযোদ্ধাদের রড দিয়ে পিটিয়ে চোখ নষ্ট করা হচ্ছে। সংসদেও ঠিকমতো কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজপথে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ জানাতেই তারা লং মার্চ শুরু করেছেন।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের শান্তিপূর্ণ লং মার্চকে বিএনপি ‘লং ড্রাইভ’ বলে সমালোচনা করছে মন্তব্য করে সারজিস আলম প্রশ্ন তোলেন, হাজার হাজার মানুষের সম্পৃক্ততা দেখে তারা একে লং ড্রাইভ বলছে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়াও একই প্রক্রিয়ায় লং মার্চ করেছিলেন। খালেদা জিয়ার কর্মসূচি লং মার্চ হলে তাদেরটা কেন লং মার্চ হবে না, আর তাদেরটা লং ড্রাইভ হলে খালেদা জিয়ার কর্মসূচি কেন লং ড্রাইভ হবে না—তা জানতে চান তিনি। সরকারের বিভিন্ন অসংগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিকে মানুষ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সহ্য করতে পারছে না, অন্যদিকে থানা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আগের মতোই দলীয় সুপারিশের প্রয়োজন হচ্ছে।
এনসিপির এই নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ন্যায্য বিচার পাওয়ার বদলে সরকারদলীয় কেউ থাকলে আপস করতে বলা হয়, না হলে হুমকি দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে সরকার ছয় মাসের মধ্যেই লাইনচ্যুত হয়ে গেছে। এমপিরা একে ‘শিশু সরকার’ বলছেন উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ছয় মাসে যদি শিশু থাকেন, তবে পাঁচ বছরের মধ্যে কবে কিশোর, তরুণ বা যুবক হবেন? বিএনপির মনস্তাত্ত্বিক চিন্তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুরোনো চিন্তায় সব জায়গায় নিজেদের যোগ্য-অযোগ্য লোক বসানো এবং অল্প সময়ে আখের গোছানোর ভাবনাই তাদের মূল লক্ষ্য। আমলাতন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ইউএনও-ডিসি বিএনপির দলীয় কর্মকর্তা হয়ে উঠেছেন এবং পেশাদারদের বদলি বা গালিগালাজ করা হচ্ছে।
সারজিস আলম বলেন, বিএনপি অনেক সমস্যা তৈরি করে রাখলেও সিস্টেম ঠিক করা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং যোগ্য মানুষের মূল্যায়ন করলে ধীরে ধীরে ব্যবস্থা ঠিক হবে। কিন্তু বিএনপির মধ্যে সেই লক্ষণ নেই। কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির নসিহত প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, যে বিএনপি বিরোধী দল হিসেবে ব্যর্থ ছিল এবং ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’-র সময় একটি ট্রাক সরাতে পারেনি, তাদের কাছ থেকে কর্মসূচি করার শিক্ষা তারা নেবেন না। তবে সঠিক পথে চললে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া দলীয় পুনর্বাসনের কার্ড প্রথা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের কার্ড দেওয়ার দাবি জানান। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি জানান।
ঝালকাঠি জেলা এনসিপির সদস্যসচিব জুবায়ের হাওলাদারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ডা. মাহমুদা আলম Mitu, যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্যসচিব শামীম হামিদী, যুগ্ম আহ্বায়ক ও বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন এবং জুলাই আন্দোলনের আলোচিত শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি।




























