বোয়িং-এয়ারবাস দ্বৈরথ: বাংলাদেশে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ চাইলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত
- আপডেট সময় : ০৩:২৬:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রতিযোগিতায় সব ক্ষেত্রে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে বিমান কেনার বিষয়টিকে বাংলাদেশের ‘খুব গুরুত্ব সহকারে’ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, "আমাদের দৃষ্টিতে, এয়ারবাসের একটি অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে। এটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। আমরা এয়ারবাস ও বিমানের মধ্যে খুব দ্রুত আলোচনা সমাপ্তির প্রত্যাশা করছি।" যেকোনো সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত যেন বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়, সেই অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের কোম্পানিগুলো যেন যেকোনো দেশের কোম্পানির সঙ্গে তাদের সাধ্যমতো সর্বোত্তম প্রতিযোগিতা করতে পারে।"
উল্লেখ্য, গত ৩০শে এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই ক্রয়ে খরচ ধরা হয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই বিমানগুলো ধাপে ধাপে সরবরাহ করবে বোয়িং। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর এক এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি অসাধারণ চুক্তি হয়েছে, যার আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক ক্রয়াদেশের চেয়ে অনেক বেশি। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বোয়িং কিনতে রাজি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদ জানান। চিঠিতে ট্রাম্প লিখেন, "বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না, আমিও বিষয়টি ভুলবো না। এ বিষয়ে মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খুব বেশি দিন নয়, অদূর ভবিষ্যতেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছি।"
একই দিনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে এবং আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা আর এগোয়নি। তবে বর্তমানে ইউরোপীয়দের চাপে তাদের কোম্পানি এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।
গত রোববারের বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার, অশুল্ক বাধা দূরীকরণ এবং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক বৈঠকেও ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার অশুল্ক বাধা দূর করার পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন।


























