মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে ইরান যুদ্ধ
- আপডেট সময় : ০১:০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

আগামী ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের আগে ইরান যুদ্ধ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা চাচ্ছেন নির্বাচনের আগে এই সংঘাত যেন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ না নেয়। বর্তমান ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই তাদের অল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি।
ওয়াশিংটন বর্তমানে সামরিক শক্তি ব্যবহারের চেয়ে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। গত আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ঘোষণা করে। এই পদক্ষেপের আওতায় ইরানের তেল থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব সহজতর করে এমন ৬০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনাকারী অন্যান্য দেশকেও ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’র হুমকি দেয়া হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির তেল রপ্তানির ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য যুদ্ধের গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। এখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী জনমত রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের সংযম দেখানোর সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মার্কিন বাহিনী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানে হামলা চালাচ্ছে এবং মার্কিন নেতারা আরও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খোলা রাখছেন। জেডি ভ্যান্স চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক, সামরিক, কূটনৈতিক ও গোপন চাপসহ সব কিছুই বিবেচনায় রয়েছে।
আগামী দুই মাস ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে চায়, অন্যদিকে তেহরানের নিজস্ব সামরিক হিসাব-নিকাশ রয়েছে। ইরান পাল্টা সামরিক জবাব দিলে তা ওয়াশিংটনের অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার দিকে মোড় নিতে পারে। আগস্টের শেষ দিকে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধকে সমর্থন করেন, যেখানে ৬৩ শতাংশ এর বিরোধিতা করছেন। জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর ট্রাম্পের অনুমোদনের হারও ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৩ শতাংশে নেমেছে। তাই নভেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।




























