ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানবজমিন-এ রিপোর্টার পদে লিখিত পরীক্ষা ২৯ সেপ্টেম্বর বরিশালে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ ভাঙ্গায় ১২০ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপসহ মা-মেয়েসহ তিনজন আটক জুড়ী সীমান্তে বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৩৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ নতুন তিন আইনে বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা সংকুচিত হয়েছে: এইচআরডব্লিউ ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়ান নবীনগরে নতুন এসিল্যান্ড হিসেবে যোগ দিলেন শারমিন সুলতানা জাতিসংঘে প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কর্মসূচি ও কূটনৈতিক তৎপরতা টাঙ্গাইলে রডের বদলে বাঁশ: সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার, তদন্ত কমিটি গঠন কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ আওয়ামী লীগ নেতা

মতিঝিলের ঐতিহ্যবাহী দেশবন্ধু সুইটমিট: সাত দশকের স্বাদের গল্প

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকার মতিঝিলের ইত্তেফাক মোড়ের অদূরে অবস্থিত 'দেশবন্ধু সুইটমিট এন্ড রেস্টুরেন্ট' প্রায় সাত দশক ধরে খাদ্যপ্রেমীদের কাছে একটি আস্থার নাম। প্রতিষ্ঠাতা শচীমোহন গোপের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই রেস্তোরাঁটি তার ঐতিহ্যবাহী সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবারের জন্য সুপরিচিত। শুরুর দিকে শচীমোহন গোপ রাস্তার মোড়ে দুধ, দই ও মাঠা বিক্রি করতেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা থেকে তিনি তার দোকানের নাম রাখেন দেশবন্ধু সুইটমিট। চিত্তরঞ্জন দাসের জীবনদর্শন এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা শচীমোহনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

এই রেস্টুরেন্টের সকালের নাস্তায় পাঁচফোড়ন দিয়ে রান্না করা আলু, পটল, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়ার ভাজি, ডাল, হালুয়া এবং পরোটা ঢাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া দুপুরের খাবারে এখানে রুই মাছ, মুরগি, খাসির মাংস, ডাল, ডিম, ভাত ও খিচুড়ি পাওয়া যায়। মিষ্টির মধ্যে রাজভোগ, ছানার আমিত্তি, কালোজাম, রসগোল্লা ও রসমালাই গ্রাহকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। এখানকার দইও বেশ জনপ্রিয়, যা দোকানের শুরু থেকেই মেনুতে রয়েছে।

৬০ ও ৭০-এর দশকে এই রেস্টুরেন্টটি কবি, লেখক, শিল্পী এবং চলচ্চিত্র জগতের মানুষের আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ৬০-৭০ এর দশকে এখান থেকে বহুবার এফডিসিতে নাশতা গেছে। তৎকালীন এফডিসিতে এখান থেকে নিয়মিত নাস্তা পাঠানো হতো। কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাক, অভিনেত্রী কবরী ও শাবানাদের পছন্দের তালিকায় ছিল এই হোটেলের খাবার। বর্তমান সময়েও এর জনপ্রিয়তা বজায় রয়েছে। বর্তমানে শচীমোহন গোপের ছেলে শ্যামল গোপ রেস্টুরেন্টটি পরিচালনা করছেন। দোকানের মূল রান্নাঘরটি হাটখোলায় অবস্থিত এবং রাজধানী সুপার মার্কেটের পাশে এর একটি শাখা রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকা এই রেস্টুরেন্টে কোনো পার্সেল হোম ডেলিভারির সুবিধা নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমানে ৪৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে নাস্তা পাওয়া যায়।

সঙ্গে হালুয়া, লাবড়া আর ৩-৪ প্রকারের মিষ্টি।

জনশ্রুতি আছে, দেশবন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ (১৮৭০-১৯২৫)।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মতিঝিলের ঐতিহ্যবাহী দেশবন্ধু সুইটমিট: সাত দশকের স্বাদের গল্প

আপডেট সময় : ১০:৪৪:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকার মতিঝিলের ইত্তেফাক মোড়ের অদূরে অবস্থিত 'দেশবন্ধু সুইটমিট এন্ড রেস্টুরেন্ট' প্রায় সাত দশক ধরে খাদ্যপ্রেমীদের কাছে একটি আস্থার নাম। প্রতিষ্ঠাতা শচীমোহন গোপের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই রেস্তোরাঁটি তার ঐতিহ্যবাহী সকালের নাস্তা এবং দুপুরের খাবারের জন্য সুপরিচিত। শুরুর দিকে শচীমোহন গোপ রাস্তার মোড়ে দুধ, দই ও মাঠা বিক্রি করতেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা থেকে তিনি তার দোকানের নাম রাখেন দেশবন্ধু সুইটমিট। চিত্তরঞ্জন দাসের জীবনদর্শন এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা শচীমোহনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

এই রেস্টুরেন্টের সকালের নাস্তায় পাঁচফোড়ন দিয়ে রান্না করা আলু, পটল, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়ার ভাজি, ডাল, হালুয়া এবং পরোটা ঢাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া দুপুরের খাবারে এখানে রুই মাছ, মুরগি, খাসির মাংস, ডাল, ডিম, ভাত ও খিচুড়ি পাওয়া যায়। মিষ্টির মধ্যে রাজভোগ, ছানার আমিত্তি, কালোজাম, রসগোল্লা ও রসমালাই গ্রাহকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত। এখানকার দইও বেশ জনপ্রিয়, যা দোকানের শুরু থেকেই মেনুতে রয়েছে।

৬০ ও ৭০-এর দশকে এই রেস্টুরেন্টটি কবি, লেখক, শিল্পী এবং চলচ্চিত্র জগতের মানুষের আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ৬০-৭০ এর দশকে এখান থেকে বহুবার এফডিসিতে নাশতা গেছে। তৎকালীন এফডিসিতে এখান থেকে নিয়মিত নাস্তা পাঠানো হতো। কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ্জাক, অভিনেত্রী কবরী ও শাবানাদের পছন্দের তালিকায় ছিল এই হোটেলের খাবার। বর্তমান সময়েও এর জনপ্রিয়তা বজায় রয়েছে। বর্তমানে শচীমোহন গোপের ছেলে শ্যামল গোপ রেস্টুরেন্টটি পরিচালনা করছেন। দোকানের মূল রান্নাঘরটি হাটখোলায় অবস্থিত এবং রাজধানী সুপার মার্কেটের পাশে এর একটি শাখা রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকা এই রেস্টুরেন্টে কোনো পার্সেল হোম ডেলিভারির সুবিধা নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমানে ৪৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে নাস্তা পাওয়া যায়।

সঙ্গে হালুয়া, লাবড়া আর ৩-৪ প্রকারের মিষ্টি।

জনশ্রুতি আছে, দেশবন্ধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ (১৮৭০-১৯২৫)।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh