প্রধানমন্ত্রীর নামে ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত
- আপডেট সময় : ০৮:৪০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম ও ছবি ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট ‘বাংলাফ্যাক্ট’। একই সঙ্গে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের অনুকরণে অপতথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো ১৬টি ওয়েবসাইট এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারকারী ৩০০টির বেশি ফেসবুক ও ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টও শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলাকালে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী সংসদকে এসব তথ্য অবহিত করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করতে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) মাধ্যমে একটি সমন্বিত ফ্যাক্টচেকিং ও তথ্য যাচাই কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। পিআইডির প্রধান কার্যালয়ে গঠিত ‘ফ্যাক্ট চেকিং ও গুজব প্রতিরোধ কমিটি’ সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। এই কমিটির নির্দেশনায় পিআইডির প্রধান কার্যালয় এবং বিভাগীয় শহরগুলোর আঞ্চলিক তথ্য অফিসগুলো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম মনিটর করছে। কোনো অপতথ্য বা গুজব শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি ফ্যাক্টচেক বার্তা ও স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া পিআইবিও গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্টচেকিং ও মিডিয়া অ্যানালাইসিস কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, পিআইবির ফ্যাক্টচেকিং ইউনিট বাংলাফ্যাক্ট এ পর্যন্ত ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ভিডিও বা রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মোট ৩০৬টি ফ্যাক্টচেক সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ইউনিটটি প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৫টি দাবির সত্যতা যাচাই করে সে অনুযায়ী প্রতিবেদন ও ভিডিও কনটেন্ট প্রকাশ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি মিথ্যা তথ্যের বিপরীতে সঠিক সরকারি তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভুয়া অনলাইন অ্যাকাউন্ট শনাক্তের পাশাপাশি সাংবাদিকদের দক্ষতা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১লা অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে পিআইবি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আয়োজিত ২০টি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৭৩৯ জন সাংবাদিক অংশ নেন। এর মধ্যে ১৪টি প্রশিক্ষণ ছিল ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ের ওপর।

























