জ্বালানি সংকটের দায় বিগত সরকারের, মন্তব্য অর্থ উপদেষ্টার
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কোনো সম্পর্ক বা দায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানিয়েছেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমদানিনির্ভর ভুল জ্বালানীনীতির কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জসমূহ: আগামী দিনের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইআরএফ মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আকতার এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বক্তব্য রাখেন।
উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভুল নীতির কারণে বিগত সরকার কী পরিমাণ ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছে, তা দেশের সব তরুণ-তরুণীর জানা প্রয়োজন। এই সংকট সমাধানে ‘কস্ট অব ইন্যাকশন’ বা ‘কস্ট অব রং ডুইং’ শীর্ষক গবেষণার জন্য তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রয়োজনে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন। রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন বেতনকাঠামোর অর্থায়নের জন্য আয়কর ও ভ্যাট বাড়ানোর পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একেক মাসে একেকটি খাতকে লক্ষ্য করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
দেশের অর্থনীতি এখনো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মতো চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, এসব সমস্যা মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং সমন্বিত নীতিকাঠামো প্রয়োজন। জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, লুণ্ঠনের অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উন্নয়ন ও উৎপাদনের অর্থনীতিতে ফিরে আসা জরুরি। তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের লুণ্ঠিত টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হয়েছে, আর দেশি মুদ্রায় রয়ে যাওয়া টাকা এখন বাজারে ছড়িয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে। চাঁদাবাজির অর্থ এক ধরনের কর হলেও তা সরকারের কোষাগারে না গিয়ে চাঁদাবাজদের পকেটে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনীতির কিছু সূচকে স্বস্তি থাকলেও উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও জ্বালানির মতো সূচকগুলোতে অস্বস্তি রয়ে গেছে। তিনি ব্যাংকিং খাতের উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং কর-জিডিপির অনুপাত কম হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। রাজস্বের ৪৫ শতাংশ বেতন-ভাতা পরিশোধে চলে যাওয়ায় উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য রাজস্ব বাড়ানোর চাপে রয়েছে সরকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, জ্বালানিসংকট সত্ত্বেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি একটি সাফল্য। তিনি সংকট সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে কয়লা ও তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালুর পরামর্শ দেন। এতে গ্যাসের ওপর চাপ কমবে এবং শিল্প খাতে সরবরাহ নিশ্চিত হবে। তিনি আরও জানান, বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আসন্ন রোজায় দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই, তবে সরবরাহের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে চালু কারখানাগুলোকে সচল রাখাই সবচেয়ে বড় কাজ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

























