ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা ভোলায় এনসিপির কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের তেলুগু তারকা নানির ক্যারিয়ার, সম্পদ ও আসন্ন সিনেমার গল্প জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা

আজ বিশ্ব নারকেল দিবস: গুরুত্ব ও বহুমুখী ব্যবহার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নারিকেলের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহু পুরোনো। নারিকেল কেবল একটি ফল নয়, বহু সংস্কৃতির জন্য এটি ‘জীবনবৃক্ষ’ হিসেবে পরিচিত। নারিকেলের প্রতিটি অংশই মানুষের উপকারে আসে; পানি, শাঁস ও তেলের পাশাপাশি খোল, ছোবড়া, পাতা ও কাণ্ড নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। নারকেল গাছকে তাই ‘কল্পতরু’ বলা হয়। গ্রামীণ কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে নারিকেল চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ধারণা করা হয়, অন্তত দুই হাজার বছর ধরে মানুষ খাবার ও নানান কাজে নারিকেল ব্যবহার করে আসছে।

আজ বিশ্ব নারকেল দিবস। নারকেলের গুণগত মান, ব্যবহার ও উপকারিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য প্রতি বছর ২ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়। এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটির (APCC) উদ্যোগে ২০০৯ সাল থেকে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। এটি কেবল একটি ফল উদযাপনের দিন নয়, বরং নারকেল চাষ, কৃষকের শ্রম এবং এই বহুমুখী গাছের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব মনে করার একটি উপলক্ষ।

বিশ্বের বিভিন্ন নারকেল উৎপাদনকারী দেশ, যেমন ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং কেনিয়াতে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। সেমিনার, কর্মশালা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে নারিকেলের ব্যবহার ও উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় নারিকেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া, দ্বিতীয় স্থানে ফিলিপাইন এবং তৃতীয় স্থানে ভারত। বাংলাদেশ নারিকেল উৎপাদনে বিশ্বে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে।

বৈজ্ঞানিকভাবে ‘কোকোস নুসিফেরা’ নামে পরিচিত এই ফলটি তালগোত্রীয় বৃক্ষের অন্তর্ভুক্ত। পর্তুগিজ শব্দ ‘কোকো’ থেকে এর ইংরেজি নাম ‘কোকোনাট’ এসেছে, যার অর্থ ‘মাথার খুলি’ বা ‘প্রেত’। নারিকেলের গায়ে তিনটি গোলাকার গর্ত মড়ার খুলির মতো দেখায় বলে প্রাচীন ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা এই নামকরণ করেছিল। এটি আসলে একটি আঁটিযুক্ত রসালো ও শাঁসালো ফল বা ‘ড্রুপ’ এবং জলপাই বা চেরির সাথে এর গঠনগত মিল রয়েছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ডাবের পানিতে পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও জিংক থাকে। ডাবের পানির উপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্বকের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখা, চুল মজবুত করা, হজম শক্তি উন্নত করা, ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করা, হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করা, অ্যাসিডিটি কমানো এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা।

নারকেল গাছের পাতা ও খোসা থেকে ফ্লোর ম্যাট, ব্যাগ, পাখা ও ঝুড়ির মতো বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়। অনেক দেশের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস নারিকেল ব্যবসা হলেও বিশ্বজুড়ে এর চাহিদাও তুলনামূলক কম, যার ফলে এই শিল্পের উন্নতি ধীর গতিতে হচ্ছে। তাই বিশ্বজুড়ে এর চাহিদা বৃদ্ধি এবং শিল্পের উন্নয়নের জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই দিবসটি পালন করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ বিশ্ব নারকেল দিবস: গুরুত্ব ও বহুমুখী ব্যবহার

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারিকেলের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহু পুরোনো। নারিকেল কেবল একটি ফল নয়, বহু সংস্কৃতির জন্য এটি ‘জীবনবৃক্ষ’ হিসেবে পরিচিত। নারিকেলের প্রতিটি অংশই মানুষের উপকারে আসে; পানি, শাঁস ও তেলের পাশাপাশি খোল, ছোবড়া, পাতা ও কাণ্ড নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। নারকেল গাছকে তাই ‘কল্পতরু’ বলা হয়। গ্রামীণ কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে নারিকেল চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ধারণা করা হয়, অন্তত দুই হাজার বছর ধরে মানুষ খাবার ও নানান কাজে নারিকেল ব্যবহার করে আসছে।

আজ বিশ্ব নারকেল দিবস। নারকেলের গুণগত মান, ব্যবহার ও উপকারিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য প্রতি বছর ২ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়। এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটির (APCC) উদ্যোগে ২০০৯ সাল থেকে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। এটি কেবল একটি ফল উদযাপনের দিন নয়, বরং নারকেল চাষ, কৃষকের শ্রম এবং এই বহুমুখী গাছের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব মনে করার একটি উপলক্ষ।

বিশ্বের বিভিন্ন নারকেল উৎপাদনকারী দেশ, যেমন ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং কেনিয়াতে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। সেমিনার, কর্মশালা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে নারিকেলের ব্যবহার ও উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় নারিকেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া, দ্বিতীয় স্থানে ফিলিপাইন এবং তৃতীয় স্থানে ভারত। বাংলাদেশ নারিকেল উৎপাদনে বিশ্বে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে।

বৈজ্ঞানিকভাবে ‘কোকোস নুসিফেরা’ নামে পরিচিত এই ফলটি তালগোত্রীয় বৃক্ষের অন্তর্ভুক্ত। পর্তুগিজ শব্দ ‘কোকো’ থেকে এর ইংরেজি নাম ‘কোকোনাট’ এসেছে, যার অর্থ ‘মাথার খুলি’ বা ‘প্রেত’। নারিকেলের গায়ে তিনটি গোলাকার গর্ত মড়ার খুলির মতো দেখায় বলে প্রাচীন ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা এই নামকরণ করেছিল। এটি আসলে একটি আঁটিযুক্ত রসালো ও শাঁসালো ফল বা ‘ড্রুপ’ এবং জলপাই বা চেরির সাথে এর গঠনগত মিল রয়েছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ডাবের পানিতে পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও জিংক থাকে। ডাবের পানির উপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্বকের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখা, চুল মজবুত করা, হজম শক্তি উন্নত করা, ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করা, হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করা, অ্যাসিডিটি কমানো এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা।

নারকেল গাছের পাতা ও খোসা থেকে ফ্লোর ম্যাট, ব্যাগ, পাখা ও ঝুড়ির মতো বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়। অনেক দেশের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস নারিকেল ব্যবসা হলেও বিশ্বজুড়ে এর চাহিদাও তুলনামূলক কম, যার ফলে এই শিল্পের উন্নতি ধীর গতিতে হচ্ছে। তাই বিশ্বজুড়ে এর চাহিদা বৃদ্ধি এবং শিল্পের উন্নয়নের জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই দিবসটি পালন করা হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh