আজ বিশ্ব নারকেল দিবস: গুরুত্ব ও বহুমুখী ব্যবহার
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

নারিকেলের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহু পুরোনো। নারিকেল কেবল একটি ফল নয়, বহু সংস্কৃতির জন্য এটি ‘জীবনবৃক্ষ’ হিসেবে পরিচিত। নারিকেলের প্রতিটি অংশই মানুষের উপকারে আসে; পানি, শাঁস ও তেলের পাশাপাশি খোল, ছোবড়া, পাতা ও কাণ্ড নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। নারকেল গাছকে তাই ‘কল্পতরু’ বলা হয়। গ্রামীণ কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে নারিকেল চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ধারণা করা হয়, অন্তত দুই হাজার বছর ধরে মানুষ খাবার ও নানান কাজে নারিকেল ব্যবহার করে আসছে।
আজ বিশ্ব নারকেল দিবস। নারকেলের গুণগত মান, ব্যবহার ও উপকারিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য প্রতি বছর ২ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়। এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটির (APCC) উদ্যোগে ২০০৯ সাল থেকে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। এটি কেবল একটি ফল উদযাপনের দিন নয়, বরং নারকেল চাষ, কৃষকের শ্রম এবং এই বহুমুখী গাছের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব মনে করার একটি উপলক্ষ।
বিশ্বের বিভিন্ন নারকেল উৎপাদনকারী দেশ, যেমন ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং কেনিয়াতে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়। সেমিনার, কর্মশালা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে নারিকেলের ব্যবহার ও উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হয়। বিশ্বের সবচেয়ে বড় নারিকেল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া, দ্বিতীয় স্থানে ফিলিপাইন এবং তৃতীয় স্থানে ভারত। বাংলাদেশ নারিকেল উৎপাদনে বিশ্বে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে।
বৈজ্ঞানিকভাবে ‘কোকোস নুসিফেরা’ নামে পরিচিত এই ফলটি তালগোত্রীয় বৃক্ষের অন্তর্ভুক্ত। পর্তুগিজ শব্দ ‘কোকো’ থেকে এর ইংরেজি নাম ‘কোকোনাট’ এসেছে, যার অর্থ ‘মাথার খুলি’ বা ‘প্রেত’। নারিকেলের গায়ে তিনটি গোলাকার গর্ত মড়ার খুলির মতো দেখায় বলে প্রাচীন ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা এই নামকরণ করেছিল। এটি আসলে একটি আঁটিযুক্ত রসালো ও শাঁসালো ফল বা ‘ড্রুপ’ এবং জলপাই বা চেরির সাথে এর গঠনগত মিল রয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডাবের পানিতে পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও জিংক থাকে। ডাবের পানির উপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে ত্বকের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখা, চুল মজবুত করা, হজম শক্তি উন্নত করা, ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করা, হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করা, অ্যাসিডিটি কমানো এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা।
নারকেল গাছের পাতা ও খোসা থেকে ফ্লোর ম্যাট, ব্যাগ, পাখা ও ঝুড়ির মতো বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়। অনেক দেশের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস নারিকেল ব্যবসা হলেও বিশ্বজুড়ে এর চাহিদাও তুলনামূলক কম, যার ফলে এই শিল্পের উন্নতি ধীর গতিতে হচ্ছে। তাই বিশ্বজুড়ে এর চাহিদা বৃদ্ধি এবং শিল্পের উন্নয়নের জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই দিবসটি পালন করা হয়।

























