ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১ বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা ভোলায় এনসিপির কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের তেলুগু তারকা নানির ক্যারিয়ার, সম্পদ ও আসন্ন সিনেমার গল্প

স্মৃতিতে অ্যালেন গিন্সবার্গ: হাঙ্গেরীয় লেখকের চোখে এক অকৃত্রিম বন্ধু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই এবং মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের মধ্যকার বন্ধুত্ব ছিল অত্যন্ত গভীর ও আন্তরিক। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। গিন্সবার্গের মৃত্যুর কয়েক বছর আগে গড়ে ওঠা এই ঘনিষ্ঠতায় নিউইয়র্কে থাকাকালীন গিন্সবার্গ কেবল তাকে আশ্রয়ই দেননি, বরং তার ‘ওয়ার এন্ড ওয়ার’ উপন্যাসটি লেখার সময় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাও দিয়েছিলেন। ক্রাসনাহোরকাই স্মরণ করেন, গিন্সবার্গের বাড়িটি ছিল ছোট, যেখানে একটি সাধারণ রান্নাঘর ছিল, যার আলমারিগুলো ছিল অদ্ভুত সবুজ রঙের—যা তিনি পোলিশদের পুরোনো জিনিসের বাজার থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।

গিন্সবার্গের জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু তার দরজা সব সময় সবার জন্য খোলা থাকত। বিট প্রজন্মের কবি, শিল্পী এবং নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক জগতের বহু মানুষ তার ছোট বাড়িতে নিয়মিত আসতেন। ক্রাসনাহোরকাই জানান, তার সঙ্গে সাহিত্য লেখা, অনুভূতি প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হতো। বিশেষ করে ‘ওয়ার এন্ড ওয়ার’ উপন্যাসটি লেখার সময় যখন তিনি নিউইয়র্কের মতো রঙিন ও ব্যস্ত শহরের পটভূমিতে একটি নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরির সমস্যায় পড়েছিলেন, তখন গিন্সবার্গ তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন পুরো পটভূমি নিয়ে না ভেবে নির্দিষ্ট কোনো ছোট বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিতে। এই পরামর্শটিই তার উপন্যাসের জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল।

গিন্সবার্গের উদারতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ক্রাসনাহোরকাই একবার ডেভিড বর্নের সঙ্গে একটি ভারতীয় সংগীতদলের বাড়িতে আসার কথা উল্লেখ করেন। সে সময় তারা একসঙ্গে গান করেছিলেন এবং গিন্সবার্গ হারমোনিয়াম বাজিয়েছিলেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার আগে গিন্সবার্গ টেবিলের নিচ থেকে একটি টেপ রেকর্ডার বের করে পুরো কথোপকথন ও সংগীত রেকর্ড করে সেই ক্যাসেটটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। ক্রাসনাহোরকাইয়ের মতে, গিন্সবার্গ এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত জ্ঞানী পরামর্শ ও সুন্দর স্মৃতির মাধ্যমে অন্যদের সমৃদ্ধ করে গেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

স্মৃতিতে অ্যালেন গিন্সবার্গ: হাঙ্গেরীয় লেখকের চোখে এক অকৃত্রিম বন্ধু

আপডেট সময় : ১০:৪৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই এবং মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গের মধ্যকার বন্ধুত্ব ছিল অত্যন্ত গভীর ও আন্তরিক। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এক বন্ধুর মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। গিন্সবার্গের মৃত্যুর কয়েক বছর আগে গড়ে ওঠা এই ঘনিষ্ঠতায় নিউইয়র্কে থাকাকালীন গিন্সবার্গ কেবল তাকে আশ্রয়ই দেননি, বরং তার ‘ওয়ার এন্ড ওয়ার’ উপন্যাসটি লেখার সময় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনাও দিয়েছিলেন। ক্রাসনাহোরকাই স্মরণ করেন, গিন্সবার্গের বাড়িটি ছিল ছোট, যেখানে একটি সাধারণ রান্নাঘর ছিল, যার আলমারিগুলো ছিল অদ্ভুত সবুজ রঙের—যা তিনি পোলিশদের পুরোনো জিনিসের বাজার থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।

গিন্সবার্গের জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু তার দরজা সব সময় সবার জন্য খোলা থাকত। বিট প্রজন্মের কবি, শিল্পী এবং নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক জগতের বহু মানুষ তার ছোট বাড়িতে নিয়মিত আসতেন। ক্রাসনাহোরকাই জানান, তার সঙ্গে সাহিত্য লেখা, অনুভূতি প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হতো। বিশেষ করে ‘ওয়ার এন্ড ওয়ার’ উপন্যাসটি লেখার সময় যখন তিনি নিউইয়র্কের মতো রঙিন ও ব্যস্ত শহরের পটভূমিতে একটি নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরির সমস্যায় পড়েছিলেন, তখন গিন্সবার্গ তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন পুরো পটভূমি নিয়ে না ভেবে নির্দিষ্ট কোনো ছোট বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিতে। এই পরামর্শটিই তার উপন্যাসের জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল।

গিন্সবার্গের উদারতার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ক্রাসনাহোরকাই একবার ডেভিড বর্নের সঙ্গে একটি ভারতীয় সংগীতদলের বাড়িতে আসার কথা উল্লেখ করেন। সে সময় তারা একসঙ্গে গান করেছিলেন এবং গিন্সবার্গ হারমোনিয়াম বাজিয়েছিলেন। অতিথিরা চলে যাওয়ার আগে গিন্সবার্গ টেবিলের নিচ থেকে একটি টেপ রেকর্ডার বের করে পুরো কথোপকথন ও সংগীত রেকর্ড করে সেই ক্যাসেটটি উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। ক্রাসনাহোরকাইয়ের মতে, গিন্সবার্গ এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিজের জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত জ্ঞানী পরামর্শ ও সুন্দর স্মৃতির মাধ্যমে অন্যদের সমৃদ্ধ করে গেছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin