মান্দায় শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ বরাদ্দের ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে
- আপডেট সময় : ০৩:৫৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর মান্দায় মেয়েশিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ভুয়া স্বাক্ষর ও বিল-ভাউচার তৈরি করে এই অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী ও চারজন প্রশিক্ষকের জন্য মোট ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দৈনিক ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা হিসেবে দুই দিনে ৩ হাজার টাকা পাওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি চারজন প্রশিক্ষকের প্রত্যেকের দৈনিক ৩ হাজার টাকা হারে দুই দিনের জন্য মোট ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৫ জুন প্রশিক্ষণটি অনুষ্ঠিত হলেও বাস্তবে তা একদিনেই শেষ করা হয়। নথিপত্রে ৬৪ শিক্ষার্থীর শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হলেও প্রশিক্ষণে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা কোনো নগদ ভাতা পাননি, বরং তাদের নামে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে পুরো দুই দিনের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী তিন শিক্ষার্থীকে দুপুরের খাবার ছাড়া কোনো ধরনের ভাতা দেওয়া হয়নি। একইভাবে বিদ্যামাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারতী রানী জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বাবদ ১ হাজার টাকা দেওয়া হলেও কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি; তাদের শুধু খাবারের প্যাকেট ও স্যানিটারি প্যাড দেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন জানান, প্রশিক্ষণটি ১৫ জুন মাত্র একদিনের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি এক দিনের ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। অথচ চারজন প্রশিক্ষকের জন্য দুই দিনের বরাদ্দে ২৪ হাজার টাকা থাকলেও তাদের মোট ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউএনও আখতার জাহান সাথী অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেননি, তবে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের নগদ ভাতা দেওয়া হয়নি, বরং এর পরিবর্তে স্যানিটারি প্যাড ও খাবার দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যাতায়াত বাবদ প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কিছু অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।




























