ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফেনীতে খুঁটিতে বেঁধে গৃহবধূ ও যুবদল নেতাকে নির্যাতন, আটক ৩ লর্ডস টেস্টে স্মিথ-কক্সের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াল ইংল্যান্ড রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানালেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ক্যানসার আক্রান্ত দুই সন্তানের জননী আঁখির বাঁচতে প্রয়োজন সহায়তা অপপ্রচার রোধে মাঠে থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কুমিল্লায় চাঁদাবাজি ও সরকারি কাজে বাধার মামলায় ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ প্রথম দিনেই শত কোটি আয় ছাড়াল যশের ‘টক্সিক’ কিংবদন্তি হলিউড অভিনেতা টিম কারি আর নেই, ৮০ বছর বয়সে প্রয়াণ ২০১৪-২০২৫: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর সাত ধরনের নিপীড়নের তথ্য প্রকাশ টানা দ্বিতীয় জয়ে লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনা

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সরকারি পদে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি বিতর্ক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের কোনো নাগরিক অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করার পর সরকারি নীতিনির্ধারণী পদে নিয়োগ, জনপ্রতিনিধি হওয়া কিংবা মন্ত্রী-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক ও আইনি ধোঁয়াশা বিদ্যমান রয়েছে। সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং সংবিধান ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিমালার মধ্যে সাংঘর্ষিক ব্যবস্থার কারণে এই আইনি সংকট দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। কিছু দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা বাধ্যতামূলক, আবার কোথাও দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল রাখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বজায় রাখতে আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন বা আনুগত্য ঘোষণা করেন, তবে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা হারান।

তবে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে নাগরিকত্বের ধারায় নতুন ব্যাখ্যা যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতির জটিলতা বেড়েছে। এই সংশোধনীতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। এই ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে অনেক দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রমাণপত্র দাখিল করে আসছেন। আইনি প্রশ্ন উঠেছে যে, দ্বৈত নাগরিকরা যেহেতু একই সঙ্গে বাংলাদেশেরও নাগরিক, তাই তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বা মন্ত্রী হওয়ার অধিকার রাখেন কিনা।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সরকারি পদ নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশে নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করার নজিরও রয়েছে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে জেনেভায় বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সময় তৎকালীন সিভিল সার্ভিস আইন ও বিধিমালার সংশ্লিষ্ট অংশ পরিবর্তন করা হয়েছিল, কারণ তার স্ত্রী রাশিয়ার নাগরিক ছিলেন।

এছাড়া শেখ হাসিনার শাসনামলে আপিল বিভাগের বিচারপতি ইমান আলী এবং বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। বিচার বিভাগীয় পদে থেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল রাখা নৈতিক ও আইনি দিক থেকে যৌক্তিক কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। হাসিনার সরকারের সময়ে বহু এমপি প্রার্থী বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে বিষয়টি আবারও সামনে চলে আসে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সরকারি পদে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৯:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের কোনো নাগরিক অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করার পর সরকারি নীতিনির্ধারণী পদে নিয়োগ, জনপ্রতিনিধি হওয়া কিংবা মন্ত্রী-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিতর্ক ও আইনি ধোঁয়াশা বিদ্যমান রয়েছে। সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং সংবিধান ও নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিমালার মধ্যে সাংঘর্ষিক ব্যবস্থার কারণে এই আইনি সংকট দিন দিন আরও জটিল আকার ধারণ করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনে এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। কিছু দেশে নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করা বাধ্যতামূলক, আবার কোথাও দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল রাখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বজায় রাখতে আলাদা অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন বা আনুগত্য ঘোষণা করেন, তবে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্যতা হারান।

তবে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে নাগরিকত্বের ধারায় নতুন ব্যাখ্যা যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতির জটিলতা বেড়েছে। এই সংশোধনীতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গণ্য হলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। এই ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে অনেক দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রমাণপত্র দাখিল করে আসছেন। আইনি প্রশ্ন উঠেছে যে, দ্বৈত নাগরিকরা যেহেতু একই সঙ্গে বাংলাদেশেরও নাগরিক, তাই তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বা মন্ত্রী হওয়ার অধিকার রাখেন কিনা।

দ্বৈত নাগরিকত্ব ও সরকারি পদ নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশে নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করার নজিরও রয়েছে। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে জেনেভায় বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সময় তৎকালীন সিভিল সার্ভিস আইন ও বিধিমালার সংশ্লিষ্ট অংশ পরিবর্তন করা হয়েছিল, কারণ তার স্ত্রী রাশিয়ার নাগরিক ছিলেন।

এছাড়া শেখ হাসিনার শাসনামলে আপিল বিভাগের বিচারপতি ইমান আলী এবং বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। বিচার বিভাগীয় পদে থেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল রাখা নৈতিক ও আইনি দিক থেকে যৌক্তিক কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। হাসিনার সরকারের সময়ে বহু এমপি প্রার্থী বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে বিষয়টি আবারও সামনে চলে আসে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh