কাবিননামায় বর-কনের আগের বিয়ের তথ্য রাখার দাবিতে আইনি নোটিশ
- আপডেট সময় : ১০:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের ফরম বা কাবিননামায় বর ও কনে উভয়েরই পূর্ববর্তী ও বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং এর সাথে জড়িত আইনি দায়-দায়িত্বের তথ্য যুক্ত করার দাবি জানিয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এই নোটিশটি পাঠান। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেティブ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে এই নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর আওতায় ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম নং ১৬০১ বা ‘ঘ’ ফরমের বর্তমান কাবিননামাটি অসম্পূর্ণ এবং অসমতাপূর্ণ। এতে বর ও কনের আগের বিয়ে, প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য, বিবাহবিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার তারিখ, চলমান বৈবাহিক মামলা এবং বিদ্যমান সন্তানের তথ্য সঠিকভাবে উল্লেখ ও যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে অনেকেই পূর্বের একাধিক বিয়ে, বিদ্যমান বৈবাহিক সম্পর্ক, বিতর্কিত বা অনিবন্ধিত তালাক, সন্তান কিংবা আগের পরিবারের প্রতি ভরণপোষণ ও অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত আইনি দায় গোপন করে নতুন বিয়েতে আবদ্ধ হতে পারছেন। এটি নতুন জীবনসঙ্গীর সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে এবং প্রতারণার সুযোগ তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতি উত্তরণে কাবিননামা সংশোধন করে বর ও কনে উভয়ের জন্য সমানভাবে আগের সব বিয়ে ও বিদ্যমান বিয়ের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিয়ে ও তালাকের তারিখ, স্থান ও নিবন্ধন নম্বর, বিবাহবিচ্ছেদের পদ্ধতি ও কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং প্রয়োজনীয় দলিল বা মামলার তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সন্তানদের বিবরণ এবং তাদের ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব বা অন্যান্য আইনি দায় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ঘোষণা রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন বিয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা অনুযায়ী সালিশ পরিষদের লিখিত অনুমতির নম্বর ও তারিখ কাবিননামায় যুক্ত করতে হবে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, বিয়ে ও তালাকের নথি এবং মৃত্যু সনদসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়েছে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান নোটিশে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া একটি রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ওই রায়ে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল করা এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড নিরাপদে সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিশে বলা হয়েছে, মূল কাবিননামায় যদি প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘরই না থাকে, তবে ডিজিটাল ব্যবস্থাও অসম্পূর্ণ তথ্যই সংরক্ষণ করবে। তাই ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি মূল ফরম সংশোধন এবং নিবন্ধকদের ওপর সুস্পষ্ট যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ ও অসমতাপূর্ণ কাবিননামার ব্যবহার পারিবারিক জীবনে ক্ষতি ডেকে আনছে, যা আইনের আশ্রয়, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকারের পরিপন্থী।



























