নিউমার্কেটের ফুটপাতে প্রতিদিন ২৫ লাখ টাকার চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য
- আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর নিউমার্কেট এবং এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা ফুটপাতের চাঁদাবাজি এখনো থামেনি। সায়েন্স ল্যাব, এলিফ্যান্ট রোড, গাউছিয়া, নীলক্ষেত মোড়, নিউমার্কেটের ১ থেকে ৪ নম্বর গেট, পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশ, কাঁচাবাজার, ঢাকা কলেজ পেট্রোলপাম্প এবং বাবুপুরা এলাকাজুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার দোকান রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, এসব দোকান থেকে প্রতিদিন দোকানপ্রতি ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ‘ভাড়া’ এবং বিদ্যুৎ বিল বাবদ অতিরিক্ত ৫০ টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন অন্তত ২৫ লাখ টাকার চাঁদা আদায় করা হয়, যা ৫ আগস্টের পর থেকে আরও জোরদার হয়েছে।
এই চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ এবং টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদল ও নিউমার্কেট থানা যুবদলের মধ্যে সংঘর্ষের নেপথ্যে ছিল এই আধিপত্য বিস্তারের লড়াই। এই ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ১০ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজেরাই বসে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে তারা শুনেছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা এই চাঁদার ভাগ নেন। বিভিন্ন পক্ষের নিয়োগ করা ‘লাইনম্যান’রা প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই টাকা সংগ্রহ করে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও একই পদ্ধতিতে চাঁদাবাজি চলেছে। নিউমার্কেট থানার ওসি (অপারেশন) খাইরুল বাশার জানান, ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ না করায় পুলিশের পক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থা চলে আসছে এবং ফুটপাতে দোকান বসানো বন্ধ না হলে চাঁদাবাজি রোধ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে সরকারি দলের সংশ্লিষ্টতা থাকায় সরকারকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


























