সুবর্ণচরে চোরাই গরু বিক্রির অভিযোগে যুবদল নেতা ফারুক বহিষ্কার
- আপডেট সময় : ১২:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার ৮ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে চোরাই গরু বিক্রির অভিযোগে ফারুক হোসেন নামের এক যুবদল নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ফারুক হোসেন ৮ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং চর আকরাম উদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা। সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি ও দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে সোমবার রাতে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার ৮ নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের চর আকরাম উদ্দিন গ্রাম থেকে একটি গরু চুরি হয়। পরে যুবদল নেতা ফারুক সেই গরুটি একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা এনাম হোসেনের কাছে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
গরুর মালিক হোসনেয়ারা (হরানির মা) অত্যন্ত দরিদ্র এবং তার পরিবার দিন এনে দিন খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। গরুটি চুরি যাওয়ার পর পরিবারটি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়ে বলে স্বজনরা জানান।
ঘটনা জানার পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রাম পুলিশ ও দফাদার এনাম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে গরুটি উদ্ধার করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসেন। গ্রাম পুলিশ ও দফাদার হুদু জানান, এনাম হোসেন তাদের বলেছেন যে তিনি গরুটি যুবদল নেতা ফারুকের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকায় কিনেছেন। বর্তমানে গরুটি ইউনিয়ন পরিষদের হেফাজতে রয়েছে।
এদিকে, গরুটি উদ্ধারের পর এনাম হোসেন অভিযুক্ত ফারুককে ধরিয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে ফারুকের ছবি প্রকাশ করে তাকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাফর উল্যাহ জানান, তারা গণমাধ্যম ও ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তারা প্রমাণাদি সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেছেন এবং উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেছেন। সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নুরুল হুদা নিশ্চিত করেন, সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি ও দলীয় নিয়ম শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে ফারুককে ইতোমধ্যে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা ফারুকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চরজব্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল হাসান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























