কারামুক্ত হলেন তনু হত্যা মামলার একমাত্র আসামি হাফিজুর
- আপডেট সময় : ০৫:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার বহুল আলোচিত কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া একমাত্র আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান কারামুক্ত হয়েছেন। হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পাওয়ার পর কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। গত রোববার (২ আগস্ট) আদালত তার জামিন মঞ্জুর করলেও মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার পর কারামুক্তির সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
এর আগে, বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ হাফিজুর রহমানের জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেন। জামিন দেওয়ার পাশাপাশি তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতের জামিন আদেশের কপি অনুযায়ী, ওইদিন শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাব্বির হোসেন, মিজানুর রহমান, রেজাউল করিম ও মীর মনিরুজ্জামান। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন ভূঁইয়া।
জামিনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলি খানম সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি বলেন, ওই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আটজন আইন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। মামলাটি কার দায়িত্বে ছিল বা নথি কার কাছে ছিল, তা তিনি জানেন না। তবে আপিল করার পর যদি জামিন স্থগিত (স্টে) হয়, তবে আসামি তাৎক্ষণিকভাবে আবার গ্রেফতার হবেন।
অন্যদিকে, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাব্বির হোসেন বলেন, "আমি আজই জামিনের বিষয়টি জানতে পেরেছি। এখনও আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে জামিন স্থগিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
চলতি বছরের ২১ এপ্রিল তনু হত্যা মামলায় ৫২ বছর বয়সী হাফিজুর রহমানকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হাফিজুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন। দীর্ঘ ১০ বছর পর এই মামলায় প্রথম কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি ঝোপের মধ্য থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে মামলাটির তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চললেও হাফিজুর রহমানের গ্রেফতারের পর তা নতুন করে আলোচনায় আসে।




























