ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

তেল সংকটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন তলানিতে, বাড়ছে লোডশেডিং

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সারা দেশে তেলভিত্তিক ৫৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রগুলোতে গড়ে মাত্র ৭-৮ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে কমপক্ষে ১৫ দিনের মজুত থাকার কথা। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কেন্দ্রই বর্তমানে অলস অবস্থায় পড়ে আছে, ফলে এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার তথ্য অনুযায়ী, ৫ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কেন্দ্রগুলো থেকে মাত্র ১ হাজার ৬৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ হ্রাসের পাশাপাশি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা আইপিপিগুলো পিডিবির কাছে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া পাওনা রয়েছে, যার ফলে তারা তেল কিনতে পারছে না। পিডিবির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। বকেয়া বিল পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে অনেক আইপিপি বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই ক্যাপাসিটি চার্জ নিচ্ছে, যা লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ।

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানান, বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর ৬-৭ মাসের বিল বকেয়া থাকায় তাদের পক্ষে তেল কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর সরকার বিভিন্ন কোম্পানিকে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দিলেও, তেলভিত্তিক কোম্পানিগুলো এর মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বারবার সরকারকে বলা হলেও বকেয়া বিলের সমস্যার সমাধান হয়নি।

৩০ জুলাই পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ৫১টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রের মধ্যে অনেকটিতেই মাত্র ২-৩ দিনের তেল মজুত রয়েছে। পিডিবির তিতাস ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে মাত্র ১২৬ টন ফার্নেস অয়েল আছে, যা একদিনও চলার মতো নয়। অন্যদিকে, গাজীপুর ১০২ মেগাওয়াট কেন্দ্রে এক ছটাক তেলও নেই, অথচ এটিকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। আরপিজিসিএলের গাজীপুর ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ৪৫২ টন তেল থাকলেও গাজীপুর ৩২ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ১২ দিনের মজুত আছে। তবে কিছু কেন্দ্রে মজুত কিছুটা বেশি; যেমন ইপিভি ঠাকুরগাঁও ১১৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ৫ হাজার ১৬২ টন এবং বারাকা শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ৪ হাজার ৪৪১ টন তেল রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৩টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ১০টিতে ১০ দিনের বেশি জ্বালানি মজুত আছে, আর ৫টি কেন্দ্র পুরোপুরি তেলশূন্য এবং ১০টি কেন্দ্রে একদিন চালানোর চেয়েও কম তেল মজুত আছে।

বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমলেও উৎপাদন বাড়েনি। মঙ্গলবার বেলা ৩টায় ১৫ হাজার ৫৩৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৩ হাজার ২৫৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে ২ হাজার ২৮৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই জ্বালানি সংকট দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

পিডিবির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, দেশে এই মুহূর্তে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। আর উৎপাদন ক্ষমতা আছে ২৯ হাজার মেগাওয়াট। এরপরও কখনো কখনো ৩৫০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ, সরকার গত ৩-৪ বছর ধরে আইপিপিসহ বিভিন্ন কোম্পানির বকেয়া বিল দিতে পারছে না। এ কারণে অনেক আইপিপি বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ নিচ্ছে। এতে করে একদিকে জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, কিন্তু রাষ্ট্র ঠিকই সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিল পরিশোধ করছে।

পিডিবির তিতাস ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে মজুত আছে মাত্র ১২৬ টন ফার্নেস অয়েল। যা দিয়ে একদিনও ওই কেন্দ্র চলবে না। তেলভিত্তিক পিডিবির বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ১০টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তেলের মজুত আছে ভেড়া ৭০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে। সেখানে তেল ছিল (৩০ জুলাই) ১ হাজার ১১৮ টন। যা দিয়ে প্রায় ১২ দিন চলবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

তেল সংকটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন তলানিতে, বাড়ছে লোডশেডিং

আপডেট সময় : ০৪:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

সারা দেশে তেলভিত্তিক ৫৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রগুলোতে গড়ে মাত্র ৭-৮ দিনের ফার্নেস অয়েল মজুত রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে কমপক্ষে ১৫ দিনের মজুত থাকার কথা। জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কেন্দ্রই বর্তমানে অলস অবস্থায় পড়ে আছে, ফলে এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার তথ্য অনুযায়ী, ৫ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট সক্ষমতার এই কেন্দ্রগুলো থেকে মাত্র ১ হাজার ৬৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ হ্রাসের পাশাপাশি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বা আইপিপিগুলো পিডিবির কাছে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া পাওনা রয়েছে, যার ফলে তারা তেল কিনতে পারছে না। পিডিবির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। বকেয়া বিল পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে অনেক আইপিপি বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেই ক্যাপাসিটি চার্জ নিচ্ছে, যা লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ।

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত জানান, বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর ৬-৭ মাসের বিল বকেয়া থাকায় তাদের পক্ষে তেল কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর সরকার বিভিন্ন কোম্পানিকে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ দিলেও, তেলভিত্তিক কোম্পানিগুলো এর মধ্যে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে বারবার সরকারকে বলা হলেও বকেয়া বিলের সমস্যার সমাধান হয়নি।

৩০ জুলাই পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ৫১টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রের মধ্যে অনেকটিতেই মাত্র ২-৩ দিনের তেল মজুত রয়েছে। পিডিবির তিতাস ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে মাত্র ১২৬ টন ফার্নেস অয়েল আছে, যা একদিনও চলার মতো নয়। অন্যদিকে, গাজীপুর ১০২ মেগাওয়াট কেন্দ্রে এক ছটাক তেলও নেই, অথচ এটিকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। আরপিজিসিএলের গাজীপুর ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ৪৫২ টন তেল থাকলেও গাজীপুর ৩২ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ১২ দিনের মজুত আছে। তবে কিছু কেন্দ্রে মজুত কিছুটা বেশি; যেমন ইপিভি ঠাকুরগাঁও ১১৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ৫ হাজার ১৬২ টন এবং বারাকা শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ৪ হাজার ৪৪১ টন তেল রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৩টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ১০টিতে ১০ দিনের বেশি জ্বালানি মজুত আছে, আর ৫টি কেন্দ্র পুরোপুরি তেলশূন্য এবং ১০টি কেন্দ্রে একদিন চালানোর চেয়েও কম তেল মজুত আছে।

বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমলেও উৎপাদন বাড়েনি। মঙ্গলবার বেলা ৩টায় ১৫ হাজার ৫৩৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১৩ হাজার ২৫৫ মেগাওয়াট সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে, যার ফলে ২ হাজার ২৮৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই জ্বালানি সংকট দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

পিডিবির একজন সিনিয়র কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, দেশে এই মুহূর্তে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। আর উৎপাদন ক্ষমতা আছে ২৯ হাজার মেগাওয়াট। এরপরও কখনো কখনো ৩৫০০ মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। এর অন্যতম কারণ, সরকার গত ৩-৪ বছর ধরে আইপিপিসহ বিভিন্ন কোম্পানির বকেয়া বিল দিতে পারছে না। এ কারণে অনেক আইপিপি বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ নিচ্ছে। এতে করে একদিকে জনগণ বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না, কিন্তু রাষ্ট্র ঠিকই সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বিল পরিশোধ করছে।

পিডিবির তিতাস ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে মজুত আছে মাত্র ১২৬ টন ফার্নেস অয়েল। যা দিয়ে একদিনও ওই কেন্দ্র চলবে না। তেলভিত্তিক পিডিবির বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে ১০টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তেলের মজুত আছে ভেড়া ৭০ মেগাওয়াট কেন্দ্রে। সেখানে তেল ছিল (৩০ জুলাই) ১ হাজার ১১৮ টন। যা দিয়ে প্রায় ১২ দিন চলবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor