দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ, শতাধিক আহত
- আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হঠাৎ করেই অস্থিরতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সোমবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রাজধানীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গতকাল দিনভর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে ছাত্রদলের সঙ্গে যুবদলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায়। এসব ঘটনায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এসময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়াতে চাইলে ছাত্রদল নেতারা বাধা দেন। পরে অডিটোরিয়ামের বাইরে অবস্থান নিলে তাদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এ সময় কয়েকজন শিক্ষকও হেনস্তার শিকার হন। এ ঘটনার পর ছাত্রদল শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এতে জকসু’র ভিপি মো. রিয়াজুল, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নূর মোহাম্মদসহ অন্তত ৪০-৫০ জন আহত হন। আহতদের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে সেখানেও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঢাকা কলেজের অডিটোরিয়ামের সামনে বেলা ৩টার দিকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এর মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১১ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিলাদ হোসেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা কলেজের অডিটোরিয়ামে একটা কর্মী সভা ছিল। আমরা সেখানে যাওয়ার সময় আমাদেরকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বহিরাগত নিয়ে হামলা করে। পরে আমরা অধ্যক্ষের কাছে গেলে তারা ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করে। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ অভিযোগ করেন, তাদের দোয়া মাহফিলে ছাত্রদল হামলা করেছে।
পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসার সামনেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ইসলামিক আন্দোলনের আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেছেন, ছাত্রশিবিরের সদস্যরা মাদ্রাসার কক্ষগুলোতে লুটপাট চালিয়েছে।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামের একটি ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে বেরোবি শাখা ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। সেখানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতের সাবেক শীর্ষ পাঁচ নেতা এবং বিএনপি নেতাকে নিয়ে এই উত্তেজনা তৈরি হয়। সংঘর্ষের পর প্রায় চার ঘণ্টা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করেন। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দফায় দফায় মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। গতকাল সরজমিন ক্যাম্পাসে দেখা যায়, ক্যাম্পাস থেকে ছাত্রদলকে ধাওয়া করার সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বহিরাগত অনেকেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় সাংবাদিকরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন। সংঘর্ষে বেরোবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান এবং শিবির সমর্থিত শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেছে।


























