গাজীপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে শিল্প উৎপাদন ও জনজীবন বিপর্যস্ত
- আপডেট সময় : ০৮:০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

শিল্পনগরী গাজীপুরে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শিল্প উদ্যোক্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংকটের ফলে কলকারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়াসহ গ্রামীণ জনপদে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এলাকাভেদে প্রতিদিন ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. ইউসুফ আলী জানান, তাদের এলাকায় ৫৩৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৮৪ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণে তাদের ২৮ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, তাদের ১৬৯ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ মিলছে ১৪৮ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দেশে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া ও লো ভোল্টেজের কারণে ফ্রিজ, টিভি ও অন্যান্য মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটছে। কৃষি ও খামারি পর্যায়েও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে; তীব্র গরম ও বিদ্যুৎ না থাকায় হিটস্ট্রোকে পোলট্রি খামারে দুই শতাধিক মুরগি মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গাজীপুরের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্প এবং ক্ষুদ্র প্রিন্টিং প্রেসগুলোও বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।





























