উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ গিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে মধ্যবিত্ত

- আপডেট সময় : ০৭:১৬:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশে বেকারত্ব, সীমিত কর্মসংস্থান এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ থেকে মুক্তির আশায় প্রতিবছর হাজারো তরুণ ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য বা অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখেন। এই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো জমি বিক্রি, সঞ্চয় ভাঙা কিংবা ঋণ নেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই বিদেশযাত্রার স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি ও কনসালট্যান্সি ফার্মের একটি চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতারকরা টুরিস্ট ভিসা, জাল ই-ভিসা, ভুয়া চাকরির অফার কিংবা অস্তিত্বহীন নিয়োগপত্র ধরিয়ে দিয়ে অসহায় মানুষদের সাথে প্রতারণা করছে। অনেক ভুক্তভোগী বিমানবন্দর থেকেই ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বিদেশে গিয়ে আটকা পড়ছেন। টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাদের উল্টো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া ১৫টি প্রতারণার মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা পরিচিতজনের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করে। এরপর উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে লাখ লাখ টাকা আদায় করে। ভুক্তভোগীরা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারেন, তাদের হাতে দেওয়া কাগজপত্রগুলো জাল বা অকার্যকর।
এ ধরনের প্রতারণার একটি উদাহরণ হলো মোজাম্মেল হকের ঘটনা। তিনি তার পরিচিত এক বন্ধুর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করেন। ওই প্রতিনিধি উজবেকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, সার্বিয়া ও ব্রুনাইয়ে লোক পাঠানোর নিশ্চয়তা দিয়ে ১৩ জনের কাছ থেকে মোট ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। প্রথমে উজবেকিস্তানের ওয়ার্ক পারমিটের নামে টুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়। পরে তিনজনকে শ্রীলংকায় পাঠিয়ে আটকে দেওয়া হয় এবং উজবেকিস্তানে যাওয়া একজনও সেখানে কোনো কাজ পাননি। ভুক্তভোগীদের থাকা-খাওয়া ও দেশে ফেরানোর জন্য অতিরিক্ত ৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া ও সার্বিয়ার ভিসা দেওয়ার নামেও প্রতারণা করা হয়, যার মধ্যে সার্বিয়ার ভিসাগুলো ছিল সম্পূর্ণ জাল।
পল্টন থানায় দায়ের করা আরেকটি মামলায় মারহাবা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, জেএস ইন্টারন্যাশনাল কনসালটেন্সির প্রতিনিধিরা সার্বিয়া, রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় কর্মী পাঠানোর কথা বলে ১৮ জনের কাছ থেকে ১ কোটি ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পরবর্তীতে বিমানবন্দরে গিয়ে যাত্রীরা জানতে পারেন, তাদের ভিসাগুলো জাল। শাসছু মিয়া নামে আরেক ব্যক্তি সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য একটি কনসালটেন্সি ফার্মের মাধ্যমে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রতারণার ঘটনায় একাধিক মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তারা বিদেশ গমনেচ্ছুদের সতর্ক করে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই মৌখিক প্রতিশ্রুতি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয়ের ভিত্তিতে টাকা লেনদেন করা উচিত নয়। যেকোনো রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স, ভিসার সত্যতা এবং চাকরিদাতার তথ্য সরকারি মাধ্যমে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
সার্বিয়ায় চাকরি, প্রসেসিং, ভ্রমণ এবং দুই বছরের টিআরসি কার্ডসহ জনপ্রতি ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ১৮ জনকে পাঠানোর চুক্তি হয় এবং মোট ১ কোটি ৭ লাখ ৯৮ হাজার ৮০ টাকা দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা ১৮ জন যাত্রীর জন্য সার্বিয়ার ই-ভিসা ও টিকিট সরবরাহ করে। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই যাত্রীরা হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে এয়া
সৌদি পাঠানোর নামে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ : পড়াশোনা না জানা শাসছু মিয়া অভিযোগ করেন, পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাহাব উদ্দিনের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে নয়াপল্টনের একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের অফিসে সৌদি আরবে এমপ্লয়মেন্ট ভিসায় পাঠানোর বিষয়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায় মৌখিক চুক্তি হয় এবং মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে

























