জাতিসংঘে ফ্রান্সের সমালোচনার জেরে মার্কিন কূটনীতিকদের ওয়াকআউট

- আপডেট সময় : ০১:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ফরাসি প্রতিনিধিদের বক্তব্য চলাকালে মার্কিন কূটনীতিকরা সভা বর্জন করে ওয়াকআউট করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে ফ্রান্স প্রশ্ন তোলার পর এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সংক্রান্ত একটি বৈঠক চলাকালে এই ঘটনা ঘটে।
এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়েছিল জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের পুনর্নিয়োগ নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি তুর্কের পুনর্নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করে। এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ফরাসি মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে যে, যুক্তরাষ্ট্র একসময় মানবাধিকারের প্রতীক হলেও এখন আর তা নেই। তারা আরও উল্লেখ করে, উত্তর কোরিয়া, রাশিয়া ও নিকারাগুয়ার মতো দেশগুলোর কাতারে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বমঞ্চে একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ফরাসি মিশনের এমন মন্তব্যের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি ফ্রান্সের এই অবস্থানকে অত্যন্ত হতাশাজনক বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-রাষ্ট্রদূত ড্যান নেগ্রিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ফ্রান্স তাদের অপমানজনক বক্তব্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটন তাদের কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য শুনবে না।
এদিকে, ফরাসি রাষ্ট্রদূত জেরোম বোনাফন্ট সরাসরি ওয়াকআউটের ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বিশ্বজুড়ে শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য এবং ফ্রান্স সবসময় সেই আদর্শ ধারণ করেই কাজ করে যাচ্ছে।
সম্প্রতি ডনাল্ড ট্রাম্প জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ তুলে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশের ওপর ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এই নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি Canada, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও। তবে সমালোচকদের দাবি, নিজের অর্থনৈতিক এজেন্ডা ও নীতি বাস্তবায়নের জন্য ট্রাম্প মানবাধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে কেবল অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন।


























