ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুকসুদপুরে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই

ছাদবাগানে শারমিনের সাফল্য: বছরে আয় ১২ লাখ, পেয়েছেন জাতীয় সম্মান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শহরের ব্যস্ত জীবনে ছাদ সাধারণত কাপড় শুকানো, পানির ট্যাংক রাখা কিংবা অব্যবহৃত জিনিসপত্র ফেলে রাখার জায়গা হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার সেই চিরাচরিত ধারণাকে বদলে দিয়ে ছাদকে রূপ দিয়েছেন হাজারো গাছের সবুজ আশ্রয়, বিরল উদ্ভিদের সংগ্রহশালা এবং একটি সফল ব্যবসার কেন্দ্রে। শখের বশে শুরু করা এই বাগান এখন তার আয়ের বড় উৎস, যেখান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও টব বিক্রি করে বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শারমিন আক্তার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’-এর ‘ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৃজিত ছাদবাগান’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার এই সফল গল্পের কথা তুলে ধরেন।

বাইরে থেকে তিনতলা বাড়িটিকে সাধারণ মনে হলেও, সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠলেই চোখে পড়ে এক অন্য জগৎ। রঙিন ফুল, ফলের গাছ, ঔষধি উদ্ভিদ এবং বিরল প্রজাতির গাছের সমারোহে সাজানো এই ছাদবাগানটি যেন শহরের কংক্রিটের ভিড়ে লুকিয়ে থাকা এক ছোট্ট উদ্যান। বাগানটির নাম রাখা হয়েছে ‘ন্যাচার’স টাচ’, যদিও স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কৃষিবাড়ি’ নামেই বেশি পরিচিত। তিন স্তরের আধুনিক এই ছাদবাগানটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে, যার প্রতিটি কোণেই রয়েছে যত্নের ছাপ।

ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করা শারমিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা ব্যবসায় শিক্ষায় হলেও তার মনের টান ছিল কৃষির প্রতি। ছোটবেলা থেকেই গাছ ভালোবাসতেন এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে গাছ সংগ্রহ করে পরিচর্যা করতেন। ২০২২ সালে বাড়ির ছাদে সীমিত পরিসরে কয়েকটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে তার এই যাত্রার শুরু হয়। প্রতিটি গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং নতুন নতুন প্রজাতি সংগ্রহের আগ্রহ তাকে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই আধুনিক ছাদবাগানে ১১০ প্রজাতির সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

ছাদবাগানে শারমিনের সাফল্য: বছরে আয় ১২ লাখ, পেয়েছেন জাতীয় সম্মান

আপডেট সময় : ০১:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

শহরের ব্যস্ত জীবনে ছাদ সাধারণত কাপড় শুকানো, পানির ট্যাংক রাখা কিংবা অব্যবহৃত জিনিসপত্র ফেলে রাখার জায়গা হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার সেই চিরাচরিত ধারণাকে বদলে দিয়ে ছাদকে রূপ দিয়েছেন হাজারো গাছের সবুজ আশ্রয়, বিরল উদ্ভিদের সংগ্রহশালা এবং একটি সফল ব্যবসার কেন্দ্রে। শখের বশে শুরু করা এই বাগান এখন তার আয়ের বড় উৎস, যেখান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও টব বিক্রি করে বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শারমিন আক্তার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’-এর ‘ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৃজিত ছাদবাগান’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার এই সফল গল্পের কথা তুলে ধরেন।

বাইরে থেকে তিনতলা বাড়িটিকে সাধারণ মনে হলেও, সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠলেই চোখে পড়ে এক অন্য জগৎ। রঙিন ফুল, ফলের গাছ, ঔষধি উদ্ভিদ এবং বিরল প্রজাতির গাছের সমারোহে সাজানো এই ছাদবাগানটি যেন শহরের কংক্রিটের ভিড়ে লুকিয়ে থাকা এক ছোট্ট উদ্যান। বাগানটির নাম রাখা হয়েছে ‘ন্যাচার’স টাচ’, যদিও স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কৃষিবাড়ি’ নামেই বেশি পরিচিত। তিন স্তরের আধুনিক এই ছাদবাগানটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে, যার প্রতিটি কোণেই রয়েছে যত্নের ছাপ।

ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করা শারমিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা ব্যবসায় শিক্ষায় হলেও তার মনের টান ছিল কৃষির প্রতি। ছোটবেলা থেকেই গাছ ভালোবাসতেন এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে গাছ সংগ্রহ করে পরিচর্যা করতেন। ২০২২ সালে বাড়ির ছাদে সীমিত পরিসরে কয়েকটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে তার এই যাত্রার শুরু হয়। প্রতিটি গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং নতুন নতুন প্রজাতি সংগ্রহের আগ্রহ তাকে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই আধুনিক ছাদবাগানে ১১০ প্রজাতির সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor