ঢাকা ০২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইতালির জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হয়ে ফিরছেন রবার্তো মানচিনি ইরাকে মার্কিন-সৌদি যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ২০ যোদ্ধা নিহত জুলাই অভ্যুত্থানের বিরোধিতাকারী ঢাবি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কমিটি গঠন সূর্যের চেয়ে ৭ গুণ উত্তপ্ত ‘কৃত্রিম সূর্য’ তৈরিতে সফল চীন রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর ১০০ ভাগ শুল্কের বিল অনুমোদন জিম্বাবুয়েতে ২১ কোটি বছরের পুরনো নতুন ডাইনোসর প্রজাতির সন্ধান বিলাওয়ালকে ‘খোলা মনে’ পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানালেন মরিয়ম নওয়াজ মৌলভীবাজারে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে ২৫ জনকে অনুদান ও সনদ প্রদান দিনাজপুর অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে ১৪৯২ কোটি টাকার প্রকল্প আইইউবিএটিতে চারটি নতুন আইইইই চ্যাপ্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

ছাদবাগানে শারমিনের সাফল্য: বছরে আয় ১২ লাখ, পেয়েছেন জাতীয় সম্মান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

শহরের ব্যস্ত জীবনে ছাদ সাধারণত কাপড় শুকানো, পানির ট্যাংক রাখা কিংবা অব্যবহৃত জিনিসপত্র ফেলে রাখার জায়গা হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার সেই চিরাচরিত ধারণাকে বদলে দিয়ে ছাদকে রূপ দিয়েছেন হাজারো গাছের সবুজ আশ্রয়, বিরল উদ্ভিদের সংগ্রহশালা এবং একটি সফল ব্যবসার কেন্দ্রে। শখের বশে শুরু করা এই বাগান এখন তার আয়ের বড় উৎস, যেখান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও টব বিক্রি করে বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শারমিন আক্তার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’-এর ‘ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৃজিত ছাদবাগান’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার এই সফল গল্পের কথা তুলে ধরেন।

বাইরে থেকে তিনতলা বাড়িটিকে সাধারণ মনে হলেও, সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠলেই চোখে পড়ে এক অন্য জগৎ। রঙিন ফুল, ফলের গাছ, ঔষধি উদ্ভিদ এবং বিরল প্রজাতির গাছের সমারোহে সাজানো এই ছাদবাগানটি যেন শহরের কংক্রিটের ভিড়ে লুকিয়ে থাকা এক ছোট্ট উদ্যান। বাগানটির নাম রাখা হয়েছে ‘ন্যাচার’স টাচ’, যদিও স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কৃষিবাড়ি’ নামেই বেশি পরিচিত। তিন স্তরের আধুনিক এই ছাদবাগানটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে, যার প্রতিটি কোণেই রয়েছে যত্নের ছাপ।

ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করা শারমিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা ব্যবসায় শিক্ষায় হলেও তার মনের টান ছিল কৃষির প্রতি। ছোটবেলা থেকেই গাছ ভালোবাসতেন এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে গাছ সংগ্রহ করে পরিচর্যা করতেন। ২০২২ সালে বাড়ির ছাদে সীমিত পরিসরে কয়েকটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে তার এই যাত্রার শুরু হয়। প্রতিটি গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং নতুন নতুন প্রজাতি সংগ্রহের আগ্রহ তাকে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই আধুনিক ছাদবাগানে ১১০ প্রজাতির সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

ছাদবাগানে শারমিনের সাফল্য: বছরে আয় ১২ লাখ, পেয়েছেন জাতীয় সম্মান

আপডেট সময় : ০১:২৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
print news

শহরের ব্যস্ত জীবনে ছাদ সাধারণত কাপড় শুকানো, পানির ট্যাংক রাখা কিংবা অব্যবহৃত জিনিসপত্র ফেলে রাখার জায়গা হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার সেই চিরাচরিত ধারণাকে বদলে দিয়ে ছাদকে রূপ দিয়েছেন হাজারো গাছের সবুজ আশ্রয়, বিরল উদ্ভিদের সংগ্রহশালা এবং একটি সফল ব্যবসার কেন্দ্রে। শখের বশে শুরু করা এই বাগান এখন তার আয়ের বড় উৎস, যেখান থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ও টব বিক্রি করে বছরে প্রায় ১২ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শারমিন আক্তার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫’-এর ‘ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সৃজিত ছাদবাগান’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার এই সফল গল্পের কথা তুলে ধরেন।

বাইরে থেকে তিনতলা বাড়িটিকে সাধারণ মনে হলেও, সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠলেই চোখে পড়ে এক অন্য জগৎ। রঙিন ফুল, ফলের গাছ, ঔষধি উদ্ভিদ এবং বিরল প্রজাতির গাছের সমারোহে সাজানো এই ছাদবাগানটি যেন শহরের কংক্রিটের ভিড়ে লুকিয়ে থাকা এক ছোট্ট উদ্যান। বাগানটির নাম রাখা হয়েছে ‘ন্যাচার’স টাচ’, যদিও স্থানীয়দের কাছে এটি ‘কৃষিবাড়ি’ নামেই বেশি পরিচিত। তিন স্তরের আধুনিক এই ছাদবাগানটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে, যার প্রতিটি কোণেই রয়েছে যত্নের ছাপ।

ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করা শারমিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা ব্যবসায় শিক্ষায় হলেও তার মনের টান ছিল কৃষির প্রতি। ছোটবেলা থেকেই গাছ ভালোবাসতেন এবং সুযোগ পেলেই বিভিন্ন জায়গা থেকে গাছ সংগ্রহ করে পরিচর্যা করতেন। ২০২২ সালে বাড়ির ছাদে সীমিত পরিসরে কয়েকটি গাছ লাগানোর মাধ্যমে তার এই যাত্রার শুরু হয়। প্রতিটি গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং নতুন নতুন প্রজাতি সংগ্রহের আগ্রহ তাকে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই আধুনিক ছাদবাগানে ১১০ প্রজাতির সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি গাছ রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor