মেধা ও সততায় আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

- আপডেট সময় : ০৬:০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, সততা ও পেশাগত যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাসদর দপ্তরে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী গড়ে তুলতে নেতৃত্বের গুণাবলী ও শৃঙ্খলার কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমান বিশ্বের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা, সীমান্ত সুরক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার মতো জটিল পরিস্থিতি সামলাতে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা অনুযায়ী প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত মডেল অনুসরণ করা প্রয়োজন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই কৌশলের উদ্দেশ্য যুদ্ধ নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা।
সরকার সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সংখ্যার চেয়ে সক্ষমতা এবং একক বাহিনীর চেয়ে যৌথতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী বাহিনী গঠনের পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক জোরদার করা সরকারের মূল লক্ষ্য। পদোন্নতির ক্ষেত্রে শারীরিক যোগ্যতা ও নিয়মিত শারীরিক কসরতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি প্রয়াত মার্কিন জেনারেল নরম্যান সোয়ার্জকফের একটি উক্তি স্মরণ করেন, ‘দ্য মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্য লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’
সেনাবাহিনীর প্রতি নিজের আবেগ ও স্মৃতিকাতরতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মাইনুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
এছাড়া দেশের চা শিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে চা শিল্পের উন্নয়ন বিষয়ক এক সভায় তিনি জানান, এই শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাগান মালিকদের ঋণের দায় সহজীকরণে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে। সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




























