সৌদি-ইরান গোপন সমঝোতা: নেপথ্যে কি পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির?
- আপডেট সময় : ০৫:১২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষা করতে রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে একটি গোপন যুদ্ধবিরতি-সদৃশ সমঝোতা হয়েছে। আর এই সমঝোতার পেছনে মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ইসরাইলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস অব ইসরাইল’-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে। সমঝোতার বিনিময়ে ইরান থেকে পাকিস্তানে গোপনে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখার সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চের শেষ দিকে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রাথমিক পর্যায় চলছিল, তখনই এই সমঝোতাটি সম্পন্ন হয়। যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ বাহিদির যৌথভাবে পরিচালিত একটি তেল পরিবহন উদ্যোগ সচল রাখার শর্তে এই মধ্যস্থতা করা হয়। গত বছরের শেষ দিক থেকে এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে গোপনে ইরান থেকে পাকিস্তানে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি এই দুই সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই এটি তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের একজন diplomat, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধের প্রথম মাসে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো বারবার ইরানি হামলার শিকার হলেও এই সমঝোতার পর রিয়াদের ওপর হামলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে দীর্ঘ তিন মাস কোনো হামলা না হওয়ার পর গত সপ্তাহে সৌদি আরবের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এর পরপরই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির আইআরজিসি প্রধান আহমাদ বাহিদিকে কঠোর সতর্কবার্তা পাঠান। তিনি জানান, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে তাদের মধ্যকার যৌথ তেল পরিবহন উদ্যোগের কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়বে। এই সতর্কবার্তার পর সৌদি আরবের দিকে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়নি।
এই মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকার পেছনে বেশ কিছু কৌশলগত কারণ রয়েছে। চলমান সংকটে পাকিস্তান মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তাছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় যেকোনো এক দেশের ওপর হামলাকে অপর দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একই সঙ্গে রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং সৌদির নিরাপত্তা রক্ষায় Islamabad-এর ওপর তাদের নির্ভরশীলতা বাড়ানোও পাকিস্তানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।
তবে এই গোপন সমঝোতা নিয়ে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একজন কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন, এই সমঝোতাটি মূলত একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে চলমান যুদ্ধে হামলার লক্ষ্যবস্তু না হওয়ার বিনিময়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছ থেকে ইরানের অর্থ বা সুবিধা আদায়ের বিষয়টিকে এক ধরনের ‘মুক্তিপণ’ হিসেবে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। অবশ্য এই চাঞ্চল্যকর গোপন সমঝোতার বিষয়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব কিংবা ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



























