মামলাজট কমাতে ১০ জেলায় প্রি-কেস মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন

- আপডেট সময় : ০১:৫৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজ বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ দিতে এবং আদালতের ওপর মামলার চাপ কমাতে নতুন ১০টি জেলায় প্রি-কেস বা মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। নতুন এই জেলাগুলো হলো বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১খ অনুযায়ী এখন থেকে এই জেলাগুলোতে ৭টি আইনের বিরোধ আদালতে যাওয়ার আগেই জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে বিচারাধীন প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচার ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এই জট নিরসনে প্রি-কেস মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে। তিনি জানান, একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় এই কার্যক্রম চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মে সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে মামলা দায়েরের সংখ্যা গড়ে ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে পারিবারিক আদালত আইনে মামলা ৩,৫৫৯টি থেকে ১,৭৪৪টিতে নেমে এসেছে, যা প্রায় ৫১ শতাংশ হ্রাস। সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন সংক্রান্ত মামলায় ২,০০১টি থেকে ৬৬১টিতে নেমে ৬৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিম্পশন মামলায় ১৭টি থেকে ২টিতে নেমে ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ, নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে ৩১টি থেকে ১৪টিতে নেমে ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, যৌতুক নিরোধ আইনে ৫,৬০৫টি থেকে ১,৮১০টিতে নেমে ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইনে ৪৩টি থেকে ৩৫টিতে নেমে ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ মামলা কমেছে।
আইনমন্ত্রী বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে সকল বিচারাধীন মামলা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি সম্ভব, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতায় রেফার করলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আদালত, আইনজীবী ও লিগ্যাল এইড অফিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব। কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জেলা জজ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের আগামী তিন মাসের মধ্যে সেখানে মামলাজট দৃশ্যমানভাবে কমানোর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
মধ্যস্থতাকারীদের দায়িত্ব পালনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, এই দায়িত্বকে কেবল চাকরি নয়, বরং জনসেবামূলক একটি দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া প্রি-কেস মেডিয়েশন বাস্তবায়নে জাইকা, জিআইজেড এবং ইউএনডিপি-এর সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ মনজুর হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা। এছাড়া ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন, কক্সবাজারের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমান, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল মান্নান। আইনমন্ত্রী গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান যেন লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি জনগণের কাছে তুলে ধরা হয়।





























