ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা আহত সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত গোবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থী মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি আ.লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদের আবারও ফাঁসি দেবে: রাশেদ খাঁন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা ইসলামের চিরন্তন শিক্ষা এমপি গাজী নজরুল আবারও রিমান্ডে, এবার ৪ দিনের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করে নিপীড়িত হয়েছেন রুহুল আমিন গাজী: রিজভী

ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতা ও পুতিনের তাণ্ডব থামানোর উপায়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ এক ভয়াবহ শীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা করতে না পেরে রাশিয়া এখন প্রতিদিন পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষ, ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতালের ওপর আক্রমণ জোরদার করেছে। কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে দিনদুপুরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সুপারমার্কেটের সরবরাহকেন্দ্র, ওষুধ ও চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পণ্য রাখার গুদামগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং খাদ্য ও নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে ইউক্রেনের পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ গ্রিড ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করছেন, হার মানার চেয়ে ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে তাঁর বিশেষ সামরিক অভিযান পরিকল্পনামতোই চলছে, যদিও পশ্চিমা বিশ্লেষকেরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সামরিক ব্যর্থতা ও বিপুল সৈন্য হারানোর ফলে পুতিনের সরকার বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে রয়েছে। তা সত্ত্বেও পুতিনের ধারণা, শেষ একটি বড় ধাক্কা দিয়েই ইউক্রেনের মনোবল ভেঙে দেওয়া সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন মধ্যস্থতার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি মস্কো ও কিয়েভে প্রতিনিধি পাঠালেও, এর ফলে ক্রেমলিন জয়ের কাল্পনিক আশ্বাস পাচ্ছে এবং প্রতিদিন নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরছে।

পশ্চিমা মিত্র ও ন্যাটো কেন এই তাণ্ডব থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অস্পষ্ট নীতি ইউক্রেনকে অন্তহীন যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০২২ সালে জো বাইডেন সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে ইউক্রেনকে একপ্রকার ভাসিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্পের বর্তমান ভূমিকা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বাধা দেওয়ার ফলে ইউক্রেন এখন বিমান হামলার মুখে চরম অসহায়। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের তোষামোদপূর্ণ সম্পর্ক পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত। জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মানুষ জমি ছেড়ে দেওয়ার বিপক্ষে হলেও একটি বড় অংশ এখন স্থায়ী নিরাপত্তার শর্তে যুদ্ধবিরতি চায়। তবে পুতিন বা ট্রাম্প কারোর কাছেই জনগণের এই চাওয়ার কোনো মূল্য নেই। কার্যকর ও নিরপেক্ষ শান্তিপ্রক্রিয়ার অভাবই ইউক্রেন, ইরান ও ফিলিস্তিনের মতো সংঘাতগুলোকে উসকে দিচ্ছে। ট্রাম্পের স্বার্থান্বেষী মনোভাব এবং ব্যক্তিগত অহংকার থেকে গঠিত তথাকথিত শান্তি পরিকল্পনা মানবিক সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৪৫-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি—আইনের শাসন ও জাতীয় সার্বভৌমত্বকে পুতিন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মতো নেতারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। গাজা, ইউক্রেনের বুচা ও মারিউপোল, কিংবা দক্ষিণ ইরানের মিনাবে ঘটা নৃশংস যুদ্ধাপরাধের অপরাধীরা প্রায়শই পার পেয়ে যাচ্ছে। স্বাধীন গণমাধ্যম ও জাতিসংঘের তদন্তে বাধা সৃষ্টি করা এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম যুদ্ধের প্রকৃত তথ্য সেন্সর করছে, ফলে রুশ জনগণের একটি বড় অংশই তাদের সামরিক বাহিনীর করুণ অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত।

ইউক্রেনের মানুষ বর্তমানে চরম নারকীয় সময়ের মুখোমুখি। পশ্চিমা গণতান্ত্রিক বিশ্ব হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। মস্কোর এই বর্বরতার বিরুদ্ধে ন্যাটোকে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে হবে এবং যুদ্ধাপরাধ বরদাশত না করার কঠোর বার্তা দিতে হবে। পুতিনের এই যুদ্ধ পুরো বিশ্বের যুদ্ধ হয়ে ওঠার আগেই তাকে থামতে বাধ্য করা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউক্রেন যুদ্ধের ভয়াবহতা ও পুতিনের তাণ্ডব থামানোর উপায়

আপডেট সময় : ০২:২৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ এক ভয়াবহ শীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সুবিধা করতে না পেরে রাশিয়া এখন প্রতিদিন পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষ, ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতালের ওপর আক্রমণ জোরদার করেছে। কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে দিনদুপুরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সুপারমার্কেটের সরবরাহকেন্দ্র, ওষুধ ও চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পণ্য রাখার গুদামগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং খাদ্য ও নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে ইউক্রেনের পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ গ্রিড ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মনে করছেন, হার মানার চেয়ে ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে তাঁর বিশেষ সামরিক অভিযান পরিকল্পনামতোই চলছে, যদিও পশ্চিমা বিশ্লেষকেরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সামরিক ব্যর্থতা ও বিপুল সৈন্য হারানোর ফলে পুতিনের সরকার বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে রয়েছে। তা সত্ত্বেও পুতিনের ধারণা, শেষ একটি বড় ধাক্কা দিয়েই ইউক্রেনের মনোবল ভেঙে দেওয়া সম্ভব। এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন মধ্যস্থতার চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি মস্কো ও কিয়েভে প্রতিনিধি পাঠালেও, এর ফলে ক্রেমলিন জয়ের কাল্পনিক আশ্বাস পাচ্ছে এবং প্রতিদিন নিরপরাধ মানুষের রক্ত ঝরছে।

পশ্চিমা মিত্র ও ন্যাটো কেন এই তাণ্ডব থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অস্পষ্ট নীতি ইউক্রেনকে অন্তহীন যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০২২ সালে জো বাইডেন সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে ইউক্রেনকে একপ্রকার ভাসিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্পের বর্তমান ভূমিকা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বাধা দেওয়ার ফলে ইউক্রেন এখন বিমান হামলার মুখে চরম অসহায়। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের তোষামোদপূর্ণ সম্পর্ক পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ দীর্ঘ যুদ্ধে ক্লান্ত। জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ মানুষ জমি ছেড়ে দেওয়ার বিপক্ষে হলেও একটি বড় অংশ এখন স্থায়ী নিরাপত্তার শর্তে যুদ্ধবিরতি চায়। তবে পুতিন বা ট্রাম্প কারোর কাছেই জনগণের এই চাওয়ার কোনো মূল্য নেই। কার্যকর ও নিরপেক্ষ শান্তিপ্রক্রিয়ার অভাবই ইউক্রেন, ইরান ও ফিলিস্তিনের মতো সংঘাতগুলোকে উসকে দিচ্ছে। ট্রাম্পের স্বার্থান্বেষী মনোভাব এবং ব্যক্তিগত অহংকার থেকে গঠিত তথাকথিত শান্তি পরিকল্পনা মানবিক সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

১৯৪৫-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি—আইনের শাসন ও জাতীয় সার্বভৌমত্বকে পুতিন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মতো নেতারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। গাজা, ইউক্রেনের বুচা ও মারিউপোল, কিংবা দক্ষিণ ইরানের মিনাবে ঘটা নৃশংস যুদ্ধাপরাধের অপরাধীরা প্রায়শই পার পেয়ে যাচ্ছে। স্বাধীন গণমাধ্যম ও জাতিসংঘের তদন্তে বাধা সৃষ্টি করা এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম যুদ্ধের প্রকৃত তথ্য সেন্সর করছে, ফলে রুশ জনগণের একটি বড় অংশই তাদের সামরিক বাহিনীর করুণ অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত।

ইউক্রেনের মানুষ বর্তমানে চরম নারকীয় সময়ের মুখোমুখি। পশ্চিমা গণতান্ত্রিক বিশ্ব হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারে না। মস্কোর এই বর্বরতার বিরুদ্ধে ন্যাটোকে আক্রমণাত্মক ভূমিকা নিতে হবে এবং যুদ্ধাপরাধ বরদাশত না করার কঠোর বার্তা দিতে হবে। পুতিনের এই যুদ্ধ পুরো বিশ্বের যুদ্ধ হয়ে ওঠার আগেই তাকে থামতে বাধ্য করা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo