আগে পুরো খবর পড়ার অভ্যাস ও ডিজিটাল যোগ্যতার গুরুত্ব
- আপডেট সময় : ০৪:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো চাঞ্চল্যকর খবর বা পোস্ট দেখেই হুট করে মন্তব্য করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু পুরো খবরটি না পড়ে কেবল শিরোনাম দেখেই প্রতিক্রিয়া দেখানো বড় ধরনের ভুলের কারণ হতে পারে। এই বাস্তবতায় অনলাইনে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং পুরো ঘটনা জানার পর মন্তব্য করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বিজ্ঞান তথ্য লেখক আল মামুন রিটন।
তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল যোগ্যতা মানে কেবল ফেসবুক ব্যবহার করা, ইউটিউবে ভিডিও খুঁজে পাওয়া বা মোবাইলে দ্রুত টাইপ করতে পারা নয়। এর আসল অর্থ হলো অনলাইনে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে নিজের মস্তিষ্ককেও সক্রিয় রাখা। কোনো খবর দেখে মন্তব্য করার আগে একটু থেমে ভাবা উচিত—খবরটির উৎস কী, পুরো ঘটনাটি কী এবং অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে একই তথ্য আছে কি না। অনেক সময় শিরোনামটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উত্তেজক করা হয়, আর মানুষ পুরো খবর না পড়ে নিজের রাগ, আনন্দ বা ভয়ের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
লেখক একটি কাল্পনিক ফেসবুক পোস্টের উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। ধরুন পোস্টে বলা হলো, "বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করলেন, প্রতিদিন রাতে মোবাইল বালিশের নিচে রাখলে সকালে ঘুম থেকে উঠে মানুষ নাকি ১০ বছর কম বয়সী হয়ে যায়!" এই পোস্টের নিচে অনেকেই বিজ্ঞানীদের প্রশংসা করে বা প্রযুক্তিকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্তব্য করা শুরু করেন। এমনকি কেউ এটিকে সরকারের গোপন করার চেষ্টা বলেও দাবি করেন। অথচ পোস্টের শেষ লাইনে ছোট করে লেখা ছিল, "এই দাবিটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। শুধু আপনাকে পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য লেখা হয়েছে।" অর্থাৎ, কেউই পুরো লেখাটি পড়েননি।
আরেকটি উদাহরণে দেখা যায়, একটি পোস্টে দাবি করা হলো, "ডাক্তাররা বলছেন, চা খেলে মানুষ বোকা হয়ে যায়।" এটি দেখেই অনেকে চায়ের কাপ নামিয়ে সত্যতা স্বীকার করে বসেন। কিন্তু নিচে গিয়ে দেখা যায়, গবেষণাটি আসলে চায়ের ওপর নয়, ইঁদুরের ওপর করা হয়েছিল। আর 'ডাক্তাররা বলেছেন' অংশটিও ছিল পোস্টদাতার মনগড়া। লেখক রসিকতা করে বলেন, বৈজ্ঞানিক সত্য তো দূরের কথা, এ বিষয়ে ইঁদুরের কাছ থেকেও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ভুল তথ্য যে কেউ বিশ্বাস করতে পারে। তাই ডিজিটাল যোগ্যতা কাউকে বেশি বুদ্ধিমান প্রমাণ করার বিষয় নয়, বরং নিজের ভুল হওয়ার সম্ভাবনাকে স্বীকার করার অভ্যাস। কোনো পোস্ট দেখে মন্তব্য করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত, "আমি যা দেখছি, সত্যিই কি পুরো ঘটনা?" এই একটি প্রশ্নই মানুষকে বড় ভুল ও লজ্জা থেকে বাঁচাতে পারে। লেখার শেষে লেখক আল মামুন রিটন পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ভালো থাকুন, পড়ুন, তারপর লড়াই করুন।"





























