খুলনায় পুলিশ পরিদর্শককে কোপানোর ঘটনায় ‘স্পিকার মিরাজ’ গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

খুলনায় পুলিশের এক পরিদর্শককে ধারালো চাপাতি দিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি মিরাজ ওরফে স্পিকার মিরাজ ও তাঁর সহযোগী ইব্রাহীম গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসআরবি-৬ স্পেশাল কোম্পানির একটি দল আজ বৃহস্পতিবার খুলনা নগরের সোনাডাঙ্গা থানার কলাবাগান ও খুলনা সদর থানার টুটপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসআরবি-৬ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তার মিরাজের (৩৯) বিরুদ্ধে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) আড়ংঘাটা ও সদর থানায় গুরুতর আঘাত, চুরি ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ইব্রাহীম গাজীর (৪২) বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা পুলিশ পরিদর্শকের ওপর হামলার ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর রাতে খুলনা জেলার সার্কেল অফিসে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম (৪৩) রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে যাচ্ছিলেন। পথে খুলনা নগরের কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী তাঁর পথ রোধ করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজির ওপর কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং এরপর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় খুলনা জেলা গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আওয়াল হোসেন বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে যান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। জেলা পুলিশ নগরে রাতে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশনাও জারি করেছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, গ্রেপ্তার মিরাজ ও ইব্রাহীমকে এখনো থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। হস্তান্তর করা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মামলায় আগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বর্তমানে রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে মিরাজ ওরফে স্পিকার মিরাজের নাম উঠে এসেছে।

























