দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য অনুসন্ধানে সাংবাদিকদের আহ্বান দিলারা চৌধুরীর
- আপডেট সময় : ০৭:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী সংবাদকর্মীদের দলীয় অন্ধ আনুগত্য বর্জন করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে রাষ্ট্রের চরিত্র বদলানোর চেষ্টা করার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে 'মঞ্চ ২৪' আয়োজিত ‘মুক্ত গণমাধ্যম, বাক-স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সহিংসতা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠী শুরুতেই মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে, কারণ মিডিয়া জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখে এবং সরকারের নানা অনিয়ম আড়াল করার চেষ্টা করে।
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী সাংবাদিকদের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, মিডিয়া হাউসগুলো অলিগার্কদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলেও সাংবাদিকদের দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্য থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষক খুঁজে বের করা এবং নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রের চরিত্র ঠিক রাখার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
সেমিনারে তিনি গুম কমিশন বাতিল প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে একে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, একলা বসে সংবিধান বানানো এবং রেফারেন্ডামের বিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি রাজনৈতিক ট্যাগিং বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্র প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের ভেতরে চলে। সিভিল সোসাইটি, শিক্ষক, গণমাধ্যম, সেনাবাহিনী ও আমলাতন্ত্র—সবাইকে মিলে দেশ গড়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তিনি বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকলে রাষ্ট্র জবাবদিহিতার আওতায় থাকে, তবে গণমাধ্যমকে অবাধ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। স্বাধীনতার পাশাপাশি জবাবদিহিতার ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। সেমিনারে মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী রুবী আয়াতুল্লাহ, সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান বীর প্রতীক ও ড. ফয়জুল হক প্রমুখ।
গুম কমিশন প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর সবাই ভেবেছিল সব আইন ও ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে এবং মানুষ একটি সুস্থ জীবন ফিরে পাবে। কিন্তু গুম কমিশনকে বাদ দেওয়া জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন।




























